টাওয়ারের কাছে নেটওয়ার্ক ভালো, দূরে গেলে কমে: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

তারিকুল ইসলাম শুভ, রংপুর প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
টাওয়ারের কাছে নেটওয়ার্ক ভালো, দূরে গেলে কমে: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ (EMF Radiation) নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেছেন, মোবাইল টাওয়ার থেকে দূরে গেলে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল হয়। টাওয়ারের কাছাকাছি থাকলে তুলনামূলক ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তবে নেটওয়ার্কের মান নির্ভর করে টাওয়ারের অবস্থান, পাওয়ার ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ের ওপর।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘মোবাইল টাওয়ারের EMF Radiation পরিবীক্ষণ, জনসচেতনতা ও QoS উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে বিটিআরসির অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ নেই। টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। সঠিক তথ্য তুলে ধরে এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিটিআরসি কাজ করছে।

তিনি বলেন, টাওয়ারের রেডিও সিগন্যাল ও পাওয়ার একটি কারিগরি বিষয়। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা রয়েছে। তাই বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা জরুরি। ২০১৭-১৮ সালেও এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল।

বাড়ির ছাদে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী বলেন, অনুমোদিত নিয়ম ও নির্ধারিত মান অনুসরণ করেই টাওয়ার স্থাপন করতে হয়। টাওয়ারের সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোও কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক না পাওয়া, কলড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি উঠে আসে।

জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর বিভাগের সব জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। নেটওয়ার্কের মান, গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ডেটা প্যাকেজ চালু রয়েছে। তবে সেবার মান এবং গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল দায়িত্ব।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার নিয়েও কথা বলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়; বরং প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বর্তমানে AI ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও ও ছবি তৈরি করা হচ্ছে। এতে সত্য তথ্য নিয়েও মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।

জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনায় ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি বন্ধ করার চেষ্টা না করে এর অপব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যক্তি পর্যায়েও দায়িত্বশীল হতে হবে।

শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। সন্তানরা কী ধরনের গেম খেলছে বা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি থেকেও শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে হবে।

সভায় বক্তারা রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বলতা, কলড্রপ, ইন্টারনেটের গতি, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানোর দাবি জানান।

রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বিটিআরসির মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

সভায় মোবাইল টাওয়ারের EMF Radiation সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্কের মান (QoS) উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Ads