পুলিশের ধাওয়ায় জঙ্গলে অটোরিকশা তারপরও ছিনিয়ে নিলে চালকের মৃত্যু

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
পুলিশের ধাওয়ায় জঙ্গলে অটোরিকশা তারপরও ছিনিয়ে নিলে চালকের মৃত্যু

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বুধবার বিকেলে পুলিশের ধাওয়ায় অটোরিকশা নিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে পড়ে চালক। তারপরও হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ধাওয়া দিয়ে আটক করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের হাত থেকে শেষ সম্বল অটোরিকশাটি রক্ষা করতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের মাঝুখান এলাকার ফজলুল হকের ছেলে আলম মিয়া (৪৫)। তিনি অটোরিকশা চালক ছিলেন।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু বুধবার দুপুরে তিনি অটোরিকশা নিয়ে তার প্রতিবেশী জামালের স্ত্রীকে আনতে উপজেলার জালশুকা এলাকায় যান। বিকেলে সেখান থেকে ওই প্রতিবেশী জামালের স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন।

ফেরার পথে বিকেল সোয়া ২টার দিকে অটোরিকশাটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার চন্দ্রা ওয়ালটন কারখানার সামনে পৌঁছলে থামানোর সংকেত দেয় নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি টহল টিম। এ সময় পুলিশের হাত থেকে তার শেষ সম্বল অটোরিকশাটি রক্ষার চেষ্টায় মহাসড়কের পাশের জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে যান চালক আলম। কিন্তু তারপরেও পুলিশের ওই টিম ও তাদের সোর্স ধাওয়া দিয়ে অটোরিকশা তাকে আটক করে। এরপর ওই চালক ও তার প্রতিবেশীর স্ত্রী সেখানে উপস্থিত পুলিশের হাতে পায়ে ধরে অটোরিকশাটি মুক্ত করতে পারেনি।

এসময় শেষ সম্বল অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। আর শেষ সম্বল রক্ষা করতে না পেয়ে ও আতঙ্কে হঠাৎ করেই সেখানে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অটোরিকশা চালক আলম। কিন্তু চালক অসুস্থ হয়ে পড়লেও ওই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়নি। উল্টো তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সফিপুর মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যায় এলাকাবাসী।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটোরিকশা চালক আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে মুহুর্তে মধ্যে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে। কিন্তু ওই টহল টিমের নাম পরিচয় না জানিয়ে উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে হাইওয়ে থানা পুলিশ বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত হয়রানি ও নৈরাজ্যের বলি হলেন এক নিরীহ চালক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযোগ, পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে দেদারচ্ছে মহাসড়কে দাপটে চলছে অটোরিকশা, সিএনজিসহ নানা ধরনের থ্রিহুইলার। যেসব অটোরিকশা মাসোহারা করা হয়নি, শুধু সেসব অটোরিকশা আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে আটক অটোরিকশা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আলম মহাসড়কে অটোরিকশা চালায় না। হঠাৎ করেই তিনি তার প্রতিবেশী স্ত্রীকে আনতে যান। কিন্তু পুলিশের ধাওয়ায় তিনি জঙ্গলে গেলে অটোরিকশাসহ তাকে আটক করে পুলিশ। এসব তথ্য জানিয়ে পুলিশের হাতে পায়ে ধরলেও অটোরিকশা ছাড়েনি পুলিশ। এসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়নি। উল্টো পুলিশ আটক অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। তবে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

এব্যাপারে নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, টহল টিম উল্টো পথে আসায় তার অটোরিকশাটি আটক করেছে। পরবর্তীতে আমরা শুনেছি, ওই অটোরিকশা চালক স্টোক করে মারা গিয়েছেন।

Ads