খুলনা মহানগরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎতের লোডশেডিংয়ে মানুষের চরম ভোগান্তি

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
খুলনা মহানগরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎতের লোডশেডিংয়ে মানুষের চরম ভোগান্তি

শিল্পনগরী খুলনায় বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কলকারখানা এবং বিশেষ করে খুলনার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক খাত চিংড়ি শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, অপারেশন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং রোগীরা চরম অশান্তি ও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।

আজ সোমবার ৩১ আগস্ট দুপুরে খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সব বয়সী মানুষই এই অসহনীয় পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে পানির সংকটসহ দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি অপারেশন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে, রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীদের গার্জিয়ানদের সাথে হাসপাতাল ক্লিনিকে নার্স ও চিকিৎসকদের গোলোযোগের সৃষ্টি হয়।

অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় সেবা কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম অশান্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। দোকানপাট, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

অনেক ব্যবসায়ীকে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা আইপিএস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে, যা ব্যবসার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

খুলনার শিল্প খাতেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, সেখানে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

পরে বিদ্যুৎ এলেও আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।

চিংড়ি শিল্পে বাড়ছে উদ্বেগ খুলনার অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত চিংড়ি শিল্পও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চাপে পড়ছে। চিংড়ি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হিমায়িতকরণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘ বিরতি হলে কোল্ড স্টোরেজ, প্রসেসিং ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যাহত হলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত খরচ বাড়ে, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী চিংড়ি শিল্পে সময়মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কম্পিউটারভিত্তিক কাজেও সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

খুলনা নগরবাসীর দাবি, শিল্পনগরী খুলনার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা নগরীর প্রতিটা অঞ্চলের বসবাসরত সাধারণ মানুষের অভিযোগ,বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে একদিকে যেমন গরমে দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং চিকিৎসাসেবায়ও মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফলে খুলনার জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

Ads