ডিমলার তিস্তায় বেপরোয়া পাথর উত্তোলনে সাঁড়াশি অভিযান

আবু মোতালেব হোসেন, প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
ডিমলার তিস্তায় বেপরোয়া পাথর উত্তোলনে সাঁড়াশি অভিযান

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে বেপরোয়া পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬টি ইঞ্জিনচালিত স্টিলের বড় নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি বড় আকারের বোমা মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা সরঞ্জাম বিজিবির বার্নির ঘাট সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে দুই শতাধিক শ্যালো মেশিন বসিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে। উত্তোলিত পাথর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীতীরের বিভিন্ন এলাকায় এনে মজুত করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও পানিপ্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের তেলিবাজার এলাকায় রবিউল ইসলাম সাহিনের বাড়ির পাশে একটি গ্রোয়িংয়ে নৌকায় করে উত্তোলিত পাথর এনে আনলোড ও মজুত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পাথর উত্তোলন, পরিবহন ও মজুত চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদীর তলদেশ থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তলদেশের গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে। এর প্রভাবে কোথাও কোথাও ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিস্তায় পাথর উত্তোলনের চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের শুরু হয় একই কার্যক্রম। সম্প্রতি দৈনিক করতোয়ায় তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন নিয়ে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান জোরদার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান। তাঁকে সহযোগিতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির ও ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার। জেলা পুলিশ, ডিমলা থানা পুলিশ এবং বিজিবির বার্নির ঘাট সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার ও সদস্যসহ প্রায় ৮০ জন সদস্য অভিযানে অংশ নেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তায় পাথর উত্তোলন বন্ধে গঠিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

 

Ads