রংপুর বিভাগে ৪,১০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই: ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে জোড়া চাপ, চরম ব্যাহত পাঠদান

তারিকুল ইসলাম শুভ, রংপুর প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
রংপুর বিভাগে ৪,১০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই: ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে জোড়া চাপ, চরম ব্যাহত পাঠদান

রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৯,৫৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪,১০০টি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় চালানো হলেও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও পাঠদানে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

বিভাগজুড়ে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি

বিভাগের ৯,৫৩৫টি স্কুলে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য অনুমোদিত শিক্ষক পদ ৫৪ হাজার। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৯ হাজার শিক্ষক। ফলে প্রধান শিক্ষকের ৪,১০০টি শূন্য পদের পাশাপাশি সার্বিকভাবে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। অবসর, বদলি ও মামলাজনিত কারণে নিয়মিত পদোন্নতি বা নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

জেলাভিত্তিক চিত্র: রংপুরেই ৬৬৯ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

রংপুর জেলার ১,৪৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৬৯টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। উপজেলার হিসাব:

মিঠাপুকুর: ২৭৫টির মধ্যে ১৪৬টি

পীরগঞ্জ: ২৩৬টির মধ্যে ১২৫টি

বদরগঞ্জ: ১৭৬টির মধ্যে ১১০টি

পীরগাছা: ১৭৮টির মধ্যে ৯৪টি

গঙ্গাচড়া: ১৭৮টির মধ্যে ৬০টি

তারাগঞ্জ: ৭৫টির মধ্যে ৫৬টি

কাউনিয়া: ১১৫টির মধ্যে ৫০টি

রংপুর সদর: ২২২টির মধ্যে ২৮টি

মামলা-জটিলতা ও ভারপ্রাপ্তদের দ্বিমুখী সংকট

জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ জ্যেষ্ঠতা দাবি করে আদালতে মামলা করায় কয়েক বছর ধরে পদোন্নতি বন্ধ ছিল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা একদিকে যেমন পাঠদান করছেন, অন্যদিকে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছেন। এতে উভয় কার্যক্রমই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মিঠাপুকুরের লোহাপুতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, তাঁর স্কুলে তিনটি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য। ফলে পাঠদান ও অফিসিয়াল কাজ একা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। স্থানীয় শিক্ষক নেতারা জানান, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ সার্কুলার না থাকায় অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের খালি পদ আর পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

পিএসসিতে তালিকা পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক জানান, জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন করা হয়েছে। বর্তমানে চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির তালিকা সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর কাজ চলছে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষার উপপরিচালক আজিজুর রহমান জানান, পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিভাগে প্রধান শিক্ষক সংকট অনেকাংশেই কেটে যাবে।

দ্রুত পদোন্নতি ও নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার এই অচলাবস্থা কাটানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ।

Ads