জমে উঠছে টুকুরিয়ার কাঁচামালের পাইকাড়ী বাজার

সরওয়ার জাহান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি পীরগঞ্জ(রংপুর):
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
জমে উঠছে টুকুরিয়ার কাঁচামালের পাইকাড়ী বাজার

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর এক বিখ্যাত ব্যবসা কেন্দ্র টুকুরিয়া হাট। এক সময় এই হাটে আশপাশের ৬ বর্গ কিঃমিঃ এলাকার সাধারন মানুষ জনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বেচা কেনার নির্ভরস্থল ছিল। এলাকার কৃষকদের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত পটল,বেগুন,শসা,মরিচ,পেয়াজ,চাল কুমড়া.মিষ্টি কুমড়া,লাউ, ঢেড়স,করলা চিচিঙ্গাসহ কাচা পণ্যের জমজমাট কেনা বেচা ছিল সপ্তাহে প্রতি বুধ ও শনিবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে।

হাটবারে এখান থেকে ২০/৩০ ট্রাক কাচামাল কেনাবেচা হবার পর তা ট্রাকযোগে তা চলে যেত চাহিদা অনুযায়ী আশপাশের জেলঅ ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে। এছাড়া প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত অবধি নিয়মিত বাজার বসতো। এখনও এর ব্যতিক্রম নেই। কিন্তু হাটের সেই অবস্থা এখন আর নেই। দীর্ঘদিন হাট সংস্কার ,হাটের গলি উদ্ধার ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না করায় হাটুরেদের সুযোগ সুবিধে কমে যাওয়ায় হাটে আগত ক্রেতা বিক্রেতার সংখ্যাও কমতে থাকে।

হাটের ইজারাদার আব্দুল মালেক বলেন, টুকুরিয়া এলাকার মাটি সব্জীচাষের উপযোগী কারনে এই এলাকার কৃষকরা নিজেদের জমিতে এসব প্রচুর উৎপাদন করেন। আশপাশে হাট না থাকায় পুর্বে এসব পণ্য ৫/৬ কিঃ মিঃ দুরের ভেন্ডাবাড়ি.গোপালপুর ও খালাশপীর হাটে বিক্রি করতো। এতে কৃষকদের ভোগান্তীও হতো। তাছাড়া তাদের সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হতো। এলাকার কৃষকদের এ অবস্থা থেকে পরিত্রান দিতেই স্থানীয় বাসীন্দাদের সিদ্ধান্তেুই টুকুরিয়া হাট উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।

স্থানীয় রাজনীতিক তাজমিনুর রহমান বলেন-এ বছর স্থানীয়ভাবে কতিপয় ব্যক্তির উদ্যোগে হাটের মনোন্নয়নে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে হাটের গলি উদ্ধার ,দোকানগুলোকে সারিবদ্ধ করে সাজানো ও ক্রেতা বিক্রেতাদের নানাভাবে সুযোগ সুবিধে প্রদানের ব্যবস্থা করা। যাতে করে রিক্সাভ্যানগুলো সরাসরি হাটের ভেতর দোকানে গিয়ে মালামাল পৌছে দিতে পারে। এর আগে এলামেলো ভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর কারনে এক অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজমান ছিল। কোন যানবাহন তো নয়ই এমনকি হাটুরেগনও নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারতো না।

সাম্প্রতিক সময়ে ্হাটে ক্রেতা বিক্রেতা ও বহিরাগত ব্যবসায়ীদের কাচামাল বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ক্রয় বিক্রয় পুরোদমে শুরু হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে কাচামাল ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম এসেছেন বেগুন আর পটল কিনতে। ক্রয় শেষে তা অটোভ্যান এ করে নিয়ে যাচ্ছেন নিজ এলাকায়। ঢাকা থেকে তাজমুল ইসলাম এসেছেন।

তিনি বলেন-অন্যান্য হাটে প্রতি বস্তায় ৮৯ তেকে ৯০ টাকা করে ইজারার টাকা নেয়া হলেও এখানে মাত্র ৩০ টাকা নেয়া হয় বরাবর। এর জন্য তিনি টুকুরিয়া থেকেই পণ্য ক্রয় করে ব্যবসা শুরু করছেন। হাটের পাশের গ্রাম বোয়ালমারী গ্রামের নজরুল ইসলাম নিজের উৎপাদিত পটল নিয়ে এসেছেন। বিক্রি করেছেন প্রতি মন ১ হাজার ১’শ টাকা হিসেবে। বাড়ির পাশেই হাটে নিজের জমির পটল বিক্রি করতে পেরে তিনি খুশী। আগামীতে আর বেশি জমিতে কৃষি পণ্য উৎপাদন করবেন বলে জানালেন। তার মতো অনেকেই টুকুরিয়ায় জমিতে উৎপাদনকৃত কাচামাল বিক্রি করতে পেরে সন্তুষ্ট।

প্রতি হাটবারে সাধারনত সকাল ৬ টা থেকে কৃষিপণ্য কেনা বেচা শুরু হয়ে ১০ নাগাদ শেষ হয়। এ সময় রংপুর,গাইবান্ধা ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা এখানে নিয়মিত এসে মালামাল ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি পুর্বের তুলনায় কয়েকগুন বেড়ে গেছে। এতে তারা কৃষিপণ্য উৎপাদনেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এজন্য নতুন করে গড়ে উঠছে হাট। প্রাণ ফিরে পাচ্ছে টুকুরিয়া। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে হয়তো আবারও টুকুরিয়া হাট আগের সেই জমজমাট অবস্থানে চলে যাবে। একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

Ads