নারীর মতায়ন অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
নারীর মতায়ন অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

নারীর মতায়ন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

এরই অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরকার যেসকল পদপে গ্রহণ করেছে তা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আজকের এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে।

গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে (জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে) দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪ টি জেলার ৫৫ টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৫টি ইউনিটে মোট ১,১২,০৯৪ টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১,৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮৬.৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫.৭৩ কোটি টাকা যার মধ্যে ৫৭.২০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

জুলাই ২০২৬ হতে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০.০০ (চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১২৩০০.০০ (বারো হাজার তিনশত) কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের ল্েয ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবার-কে আর্থ-সামাজিক প্রোপটে ৫ টি কোয়ান্টাইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হয়েছে।

পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে শুধু ১ম, ২য় এবং ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্ত (নিম্ন স্কোর প্রাপ্ত পরিবার) নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন।

আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ হতে দেশব্যাপী একযোগে সকল এলাকার খানা/পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীগণকে এ সংক্রান্ত প্রশিণের ১ম পর্যায়ের প্রশিণ প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মীগণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস এর মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবে।

এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবে। এটি কার্যকরভাবে সম্পন্নের মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, Network Based Cyber Security, Work Force Management, Network Operation Center (NOC) room স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি ৫ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে ইনপুট প্রদান করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ হতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

বর্তমান অর্থবছরে নতুন ৪০ ল নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ৩১ অর্থবছরে যোগ্য সকল নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে। উপকারভোগীগণকে প্রদেয় ফ্যামিলি কার্ডটি Dual Chip, QR Code I Near Field Communication (NFC) সুবিধা সম্বলিত যা সরকারের পেমেন্ট স্কীমের সাথে সংযুক্ত থাকবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীগণ ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি বিতানের Point of Sales (POS) এবং Mobile Financial Services (MFS) হতে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ১ হতে ৩১ নং ওয়ার্ড এর মধ্যে ২ নং ওয়ার্ড , ৩ নং ওয়ার্ড ও ১২ নং ওয়ার্ড (আংশিক), ১৬নং ওয়ার্ড, ১৭ নং ওয়ার্ড (আংশিক), এবং ২৯নং ওয়ার্ড, ৩০ নং ওয়ার্ড (আংশিক) এ প্রশিণ সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত ওয়ার্ড সমূহের জন্য মোট ৬০ টি ট্যাব পাওয়া গিয়েছে।

পরবর্তিতে ট্যাব পাওয়া সাপেে পর্যায়ক্রমে বাকিদের প্রশিণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে ২, ৩ ও ১২ নং ওয়ার্ড খুলনা -৩ আসনের অর্ন্তভূক্ত এবং ১৬, ১৭ ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ড খুলনা -২ আসনের অর্ন্তভূক্ত।

উল্লেখ্য খুলনা-৩ আসনের আওতাধীন (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৩) ১ হতে ১৫ নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ১১৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১২ জন সুপারভাইজার নিয়োজন করা হয়েছে এবং খুলনা-২ আসনের আওতাধীন (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১) ১৬, ১৭, ১৮,১৯, ২০,২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯ জন সুপারভাইজার এবং (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-২) ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৭, ২৮ ,২৯, ৩০ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ১০৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপারভাইজার নিয়োজন করা হয়েছে ।

আজ ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে মাননীয় মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মহোদয়ের উদ্বোধনের পর তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথা বর্তমান সরকারের এই ফ্যাগশিপ কার্যক্রম বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহের বিপুল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার ল্েয সকলের সহযোগিতা আন্তরিকভাবে কাম্য।

Ads