যানজট হ্রাস ও সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

জিনিউজ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
যানজট হ্রাস ও সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। দেশের সংকটকালে আপনি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নিয়েই রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ভাঙতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। রাজধানীর যানজট হ্রাস, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনারোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, যা খুবই ইতিবাচক। তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য পেতে হলে সমন্বিত টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাবনা আপনার সদয় বিবেচনার জন্য পেশ করছি।

১.রাজধানীর যানজট হ্রাস ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সহজ-সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায় হলো রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক নতুন ও আধুনিক বাসসেবা চালু করা। উপযুক্ত অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু হলে বহু মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে বাসে যাতায়াত করবেন। সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন কমলে যানজট কমবে, বাসের গতি এবং ট্রিপ সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু যদি পুরানো বাস ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক পরিচালনা করা হয় তাহলে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীগণ বাস ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন না। অর্থাৎ Modal Shift হবে না। ফলে সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন কমবে না, যানজটও হ্রাস পাবে না।

বাস ব্যবস্থাপনায় কিছুটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হলেও ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক বাস পরিচালনার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত যানবাহন ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে মাত্র ১১% যাত্রী পরিবহন করে, যেখানে গণপরিবহন ৫৩% যাত্রী পরিবহন করে। তাই ব্যক্তিগত যানবাহন নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে যানজট হ্রাস করতে হলে ৪ হাজার আধুনিক নতুন বাস ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক পরিচালনার বিকল্প নেই। এজন্য সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এতে নগরবাসী মর্যাদার সাথে যাতায়াত করতে পারবেন। তাই তড়িঘড়ি করে পুরানো বাস দ্বারা রুট রেশনালাইজেশন পদ্ধতি চালু না করে কিছুটা সময় নিয়ে নতুন বাসের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালু করা উত্তম। কারণ একটি পদ্ধতি একবার ব্যর্থ হলে সেটির সাফল্য পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। তাছাড়া গণপরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা টিকিয়ে রাখার জন্য একটি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা চায় এই পদ্ধতি যেকোনোভাবে ব্যর্থ হোক।

রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালু করা হয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ছড়িয়ে থাকা বহু নারী এই বাসের সুবিধা পাচ্ছেন না। বাসে যাত্রী সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বাস পরিচালনায় লোকসান হচ্ছে। কিন্তু ফ্রাঞ্চাইজ-ভিত্তিক আধুনিক নতুন বাসসেবা চালু হলে সকল বাসই নারীবান্ধব হবে। তখন নারীদের জন্য আলাদা বাসের প্রয়োজন হবে না।

রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, সাবওয়ে, সার্কুলার রোড নির্মাণ এবং ওয়াটার বাস পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয় সাপেক্ষ। তাই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজধানীর যানজট হ্রাসের সহজ ও সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক বাসসেবা চালু করতেই হবে।

২. রাজধানীর স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য সকালে ও দুপুরে হাজার হাজার ব্যক্তিগত যানবাহন রাস্তায় চলে। এই দুই সময়ে রাজধানীজুড়ে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়। তাই রাজধানীর ভিতরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে একসাথে অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত করতে পারবে। যানজট কমবে। এছাড়া বাসে যাতায়াতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনে সমতা-ভিত্তিক চেতনার বিকাশ ঘটবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

৩. বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান। জনসাধারণকে পরিবহন সেবা প্রদানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের বাস কেনা হয়। এসব বাসের কাঠামো এবং ভাড়া যাত্রীবান্ধব। কিন্তু বিআরটিসি বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী বাস বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইজারা প্রদান করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এই ইজারা দেওয়া বাসগুলো সকালে প্রতিষ্ঠানের স্টাফ/শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সারাদিন অলস পড়ে থেকে আবার বিকালে গন্তব্যে ফেরে। অর্থাৎ বাসগুলো সারাদিন অব্যবহৃত থাকে। অথচ রাজধানীর সড়কে অগণিত নারী, শিশু, বয়স্ক এবং কর্মজীবী মানুষ বেসরকারি জরাজীর্ন বাসে অবর্ণনীয় কষ্ট করে যাতায়াত করছেন। এভাবেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বিআরটিসির পরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিআরটিসির প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাস পরিচালনায় লোকসান বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির বাস ইজারা নেয়, সেসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি মালিকদের বাস ইজারা নিতে পারে বা নিজস্ব অর্থায়নে/সরকারি ঋণে বাস ক্রয় করতে পারে। সরকার যদি বিআরটিসির মাধ্যমে পরিবহন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে তাহলে শুধু রাজধানী নয়, আন্তঃজেলায় চলাচলকারী বাসের ভাড়া নৈরাজ্য এবং অব্যবস্থাপনা বন্ধ হবে।

সরকার পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে ইলেক্ট্রিক বাস প্রচলনের সিদ্ধান্তু নিয়েছে। এটা ভালো উদ্যোগ। তবে এই বিশেষায়িত বাস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিআরটিসির আছে কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। বিআরটিসির অধীনে বিপুল ব্যয়ে কেনা সুইডেনের ভলভো ও দক্ষিণ কোরিয়ার দাইউ- এর মতো উন্নতমানের বাস রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। তাই বিআরটিসির উপর নির্ভর না করে ইলেক্ট্রিক বাস পরিসেবায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা উচিত।

৪. রাজধানীসহ দেশের সকল শহরাঞ্চলে অটোরিকশার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় কায়িক শ্রমভিত্তিক বিভিন্ন পেশার লাখ লাখ মানুষ অল্পশ্রমে বেশি উপার্জন করতে অটোরিকশা চালনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দেশে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে মানুষ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী এসব যানবাহন ব্যবহার করছেন। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা বৃদ্ধি, অনিরাপদ কাঠামো, অপরিকল্পিত চলাচল এবং চালকদের অদক্ষতা ও অসহিষ্ণু আচরণের কারণে অটোরিকশা যানজট বৃদ্ধি ও সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী স্থবির হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মানসম্মত গণপরিবহন এবং অটোরিকশার উন্নত বিকল্প মানুষের সামনে হাজির করতে হবে। রাজধানীতে এসেই অটোরিকশা চালানোর অবাধ সুযোগ বন্ধ করতে হবে। দেশব্যাপী অটোরিকশা সমস্যা সমাধানের জন্য সড়ক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি পর্যায়ক্রমিক তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গ্রাম-শহরকেন্দ্রিক কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

৫. BRTA, BRTC এবং DTCA হলো পরিবহন খাতের বিশেষায়িত টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে। কারণ তাঁরা পরিবহন খাতের সমস্যা ও সমাধান জানেন। BRTA, BRTC এবং DTCA প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

৬. প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এজন্য প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ মডিউল অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

৭. সারা দেশে ৫ লাখের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রয়েছে। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন ৮২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তাই সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।

৮. রেল ও নৌ-পরিবহন সবচেয়ে সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং টেকসই গণপরিবহন। এই দুই মাধ্যমে কম খরচে অধিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যায়। তাই রেল ও নৌ-পরিবহন উন্নত ও বিস্তৃত হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে। ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্য কমবে। সড়কপথে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমার ফলে দুর্ঘটনাও কমবে। কারণ অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পণ্যবাহী যানবাহন। এছাড়া যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য উন্নত রেল ও নৌ-পরিবহন থাকলে বাস-ট্রাকের একচেটিয়া আধিপত্য কমবে। এই বাস্তবতায় সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহনকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করা যেতে পারে। এর ফলে তিনটি যোগাযোগ খাত সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশে একটি পরিকল্পিত, ভারসাম্যপূর্ণ নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

দেশের পরিবহন খাতে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, অদক্ষ ও অসুস্থ চালক, অসচেতন যাত্রী ও পথচারীদের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন। দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। অনেকেই পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে অসংখ্য পরিবার আর্থিক এবং সামাজিকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। দেশে তীব্র হচ্ছে আর্থ-সামাজিক সংকট। তাই সড়ক দুর্ঘটনারোধে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা-সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আপনি মানবিক এবং সংবেদনশীল মানুষ। মানুষের কষ্ট আপনি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। তাই আপনার প্রতি প্রত্যাশা- আপনি দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে যৌক্তিক ব্যয়ে টেকসই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। কারণ দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে সহজ-সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। অবশ্য এই উপলব্ধি থেকেই আপনি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছেন। এসব প্রকল্পের সাফল্য কামনা করছি। আপনার নেতৃত্বে আমরা যেতে চাই বহুদূর…।

লেখক: সাইদুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

Ads