ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন মূলত তরুণেরা। এ সময় রাজধানী প্যারিস ও লিয়নে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুব সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের দাবি, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন দুই লাখ বিক্ষোভকারী। তবে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২০ হাজার। রাজধানীতে অংশ নেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ।

প্যারিসে শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল চললেও শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা মিছিলের নির্ধারিত সমাপ্তিস্থলের কাছে জড়ো হলে রাস্তায় থাকা ময়লার পাত্র ও বিভিন্ন আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

প্যারিস থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক নাতাশা বাটলার জানান, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তাদের সংবাদকর্মী দলকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়।

পুলিশ লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় আরও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ সময় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখা যায় চিকিৎসাকর্মীদের। অন্যদিকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে হাত তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্যারিসের উপকণ্ঠে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে রাস্তার পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অন্তত একটি আগুন ধরানো বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকার বলছে, বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে তার সরকার।

এদিকে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়। হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ

ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে তরুণদের বিক্ষোভ। শনিবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে হাজারো তরুণ রাস্তায় নামেন। কোলনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে বড় জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। আয়োজকদের দাবি, দেশটির ৩০টির বেশি শহরে বিক্ষোভে অংশ নিতে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গায় প্রায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তারের পর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল আঞ্চলিক পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। অন্যদিকে ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনার পর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির পুলিশ।

Ads