সিরাজগঞ্জে অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ৬৫ চরমপন্থি সর্বহারা

আমিনুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ৬৫ চরমপন্থি সর্বহারা

অন্ধকার পথ, অনিশ্চিত জীবন আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর শঙ্কা। একসময় যাদের জীবন ছিল অস্ত্র আর সংঘাতের দামামায় তারাই ফিরলেন স্বাভাবিক জীবনে। নতুন করে বাঁচার প্রত্যয়ে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী’ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।

সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তারা। দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভয় আর অনিশ্চয়তায় কেটেছে জীবনের অনেকটা সময়। কেউ হারিয়েছেন স্বজন, কেউ বিছিন্ন হয়েছেন পরিবার থেকে। আবার কেউ প্রতিনিয়ত থেকেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আতঙ্কে। অস্ত্রের পথ যে শান্তি কিংবা নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে পারে না, সেই উপলব্ধি থেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত।

রবিবার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার চড়িয়ায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ এর সদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করেন ৬৫ জন চরমপšি’ সদস্য। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের ৭ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং পাবনা জেলার ৪৫ জন। আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে পরিবার ও সমাজে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি এবং পুনর্বাসনে ইতিবাচক রয়েছে। একই
সঙ্গে পরিবার ও সমাজে ফিওে আসতে পারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

এসময় এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আর পরিবারের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনী সহযোগিতা আর সেই বাস্তবতা বিবেচনায় আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্ম কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।, নতুন জীবনের এই যাত্রায় তাদের প্রত্যাশা, অতীতের ভুল পেছনে ফেলে ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ। এর আগে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায়
৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপšি’ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

Ads