তানোরের বাজারে নতুন আলু বিপাকে পুরাতন আলু হিমাগারে মজুত কারীরা

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
তানোরের বাজারে নতুন আলু বিপাকে পুরাতন আলু হিমাগারে মজুত কারীরা

শীত মৌসুমে সবজির মধ্যে ভোক্তাদের মাঝে নতুন আলুর চাহিদা একটু বেশিই থাকে। মাছ মাংস থেকে শুরু করে সব তরকারিতেই নতুন আলুর স্বাদ একটু আলাদাই থাকে। কিন্তু পুরাতন আলুর চেয়ে দামটা একটু বেশিই থাকে। নভেম্বর মাস থেকে নতুন আলু বাজারে এসেছে। নতুন আলু বাজারে আশার কারনে পুরাতন আলু হিমাগারে মজুত কারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

এ সুযোগে সিন্ডিকেট চক্র পুরাতন আলুর দাম কমিয়ে দিয়েছেন। সাড়ে ১০ টাকা থেকে ১১ টাকা কেজিতে হিমাগার থেকে বিক্রি হচ্ছে পুরাতন আলু। এই আলু হাত বদল হয়ে ভোক্তা পর্যায়ে ২০ থেকে ২৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এতে করে মজুত কারীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

আলু চাষী মামুন জানান, হিমাগারে এখনো ১৬ শো বস্তা আলু রয়েছে। মাঝে আলুর দাম ১৮/১৯ টাকা কেজিতে হিমাগার থেকে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু নতুন আলু বাজারে আশার কারনে পুরাতন আলুর চাহিদা কমে গেছে। দিনের দিন দাম কমতেই আছে। গত মৌসুমে আলু চাষীদের প্রচুর লোকসান গুনতে হয়েছে। কেজিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ২৪/২৯ টাকা করে। আবার হিমাগার ভাড়া দিতে হয়েছে ৬ টাকা কেজি। চারদিক থেকে আলু চাষীরা লোকসানে পথে বসেছে।

কেজিতে ২০/২২ টাকা করে লোকসান গুনতে হয়েছে। এ লোকসান কোন ভাবেই পুশিয়ে নেওয়ার মত না। নতুন আলু পাইকারি প্রতি কেজি প্রকার ভেদে ১৮/২০/২২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সেই আলু বাজারে ভোক্তারা কিনছেন ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে। হাত বদল হয়ে বাজারে আসলে ভোক্তাদের দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। সিন্ডিকেট চক্রের কারনে চাষী থেকে শুরু করে ভোক্তারা চরম ভাবে জিম্মি।

ভোক্তা ডলার জানান গত শুক্রবারে পৌর এলাকার কালীগঞ্জ হাটে নতুন দেশি পাকড়ি আলু ৩৫ টাকা কেজি দরে ২ কেজি কিনেছি। পুরাতন আলু ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নতুন দেশি পাকড়ি আলু পাইকারি ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজি কিনে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত মৌসুমে এসময় এজাতীয় আলুর কেজি ছিল ৭০/৮০ টাকা কেজি। তবে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে আরো নতুন আলু বাজারে আসবে। এলে আরো দাম কমে যাবে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

সুত্র জানায়, উপজেলায় ৭ টি হিমাগার রয়েছে। সাত হিমাগারের পর্যাপ্ত আলু মজুত রয়েছে। আল মদিনা হিমাগারে ১৪ হাজার বস্তা, রহমান স্পেশালে ৪০ হাজার বস্তা, তামান্না হিমাগারে ২০ হাজার বস্তা, রহমান পটেটোতে ২৬ হাজার বস্তা, রহমান ইউনিট ২ এ ২২/২৩ হাজার বস্তা ও বিসমিল্লাহ হিমাগারে ১০ হাজার বস্তা আলু মজুত রয়েছে। এর মধ্যে আল মদিনা হিমাগারে মজুতকৃত আলুতে ব্যাপকহারে গজিয়েছে গাছ, আর রহমান স্পেশালে বেশির মজুতকৃত আলু পঁচে গেছে।

মনির জানান, হিমাগারে মজুত আছে সাড়ে তিন শো বস্তা আলু। যখন ১৮/১৯ টাকা কেজি দাম উঠেছিল তখন বিক্রি করব বলে চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু হিমাগার থেকে বের করা যায়নি। নভেম্বরের শুরুতে একরাতের ভারী বর্ষনের কারনে ১৮/১৯ টাকা কেজি দাম উঠলেও সেটি বেশি ছিল না।

পলাশ নামের আরেক চাষী জানান, ১০০ বস্তা আলু মজুত রয়েছে। কিন্তু নতুন আলু বাজারে আশার কারনে পুরাতন আলুর দাম নাই বললেই। কারন হিমাগারে ১০/১১ কেজি দরে বিক্রি। দাম না বাড়লে আলু বিক্রি করার চেয়ে ফেলে দিতে হবে। কারন হিমাগারের ভাড়ায় উঠবে না।

খুচরা ব্যবসায়ী মাসুদ, আলফাজ, গনেশ জানান, পুরাতন আলুর চাহিদা নাই। যত সামান্য পুরাতন আলু কিনেও বিক্রি করতে পারছিনা। অথচ নতুন আলুর চাহিদা প্রচুর। নতুন আলু প্রকার ভেদে ১৮ টাকা থেকে ২২ টাকা কেজি দরে কিনা হয় এবং বিক্রি হয় ২৮ টাকা, ৩০ টাকা আবার ৩৫ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে উপজেলায় আলু চাষ হয়েছিল ১৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৪৮ মে:টন। যা উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ ভাগের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে।

Ads