রাজস্থলীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা

মো, আজগর আলী খান, রাজস্থলী প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
রাজস্থলীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা

পার্বত্য পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির বুকজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়ে বিদায় নিলেন মা দুর্গা। প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের চোখে ছিল বিদায়ের বিষাদ, আর মনে ছিল আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা।

এবার রাজস্থলী উপজেলার তিন টি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ইউনিয়নে মোট ৫ টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।তার মধ্যে ছিল একটি পারিবারিক। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, আরতি ও ভক্তদের আনাগোনা। কয়েক দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে এ দুর্গম পার্বত্য জনপদে সৃষ্টি হয় আনন্দমুখর পরিবেশ। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পাহাড়ী বাঙ্গালী মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উপজেলার ঘিলাছড়ি ও বাঙ্গালহালিয়াতে পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। কয়েক স্তরে পুলিশ,সেনাবাহিনীর ও আনসার ছিল নিরাপত্তা জোরদার। উৎসব চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে উৎসবকে ঘিরে জনমনে স্বস্তি তৈরির প্রত্যাশা ছিল।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। টানা ছয় দিনের আনন্দ উৎসবের পর বুধবার বিকাল ৫ টার পর বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। ভক্তদের প্রার্থনায় উঠে আসে অশুভ শক্তির বিনাশ, মানুষের কল্যাণ এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।

শেষদিনে বাঙ্গালহালিয়া কুতুরিয়া পাড়া ও ছাগল খাইয়া থেকে ট্রাকের করে শোভাযাত্রা বের হন মা দুর্গা, কার্তিক, স্বরসতী, লক্ষী ও গনেশ। অপর দিকে রাজস্থলী বাজার হরিমন্দির থেকে শোভযাত্রা বের হয়ে তাইতং পাড়া, নারামুখ পাড়া, খাগড়াছড়ি পাড়া হয়ে বাজার পুকুরে এসে শেষ হয়। এ সময় ভক্তরা নাচ-গান, ঢাকঢোল, উলুধ্বনি ও রং ছিটানোয় মেতে ওঠেন। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা শেষ বিদায় জানাতে বাজার পুকুর ও কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ভীড় করেন। পরে দেবীর চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মেখে আনন্দ ভাগাভাগি করেন ভক্তরা। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে চলে এই আয়োজন। পরে কর্ণফুলী ও রাজস্থলী বাজার পুকুরে দেয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন।

রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুফ হাসান বলেন, কঠোর নিরাপত্তা মধ্য দিয়ে রাজস্থলী উপজেলার ৫ টি মন্ডপে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শেষ দিনেও যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তায় ছিল। আগামীতেও এই ধরণে নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

Ads