পুঠিয়ার চা বিক্রেতার ছেলে মেডিকেলের সুযোগ পাওয়ায় বই ও অনুদান দিলেন মিডিলাইপ হসপিটাল

পুঠিয়া প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
পুঠিয়ার চা বিক্রেতার ছেলে মেডিকেলের সুযোগ পাওয়ায় বই ও অনুদান দিলেন মিডিলাইপ হসপিটাল

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার এক চা দোকানদারের ছেলে ইমন আলী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরে এলাকা বাসির মধ্যে যেন আনান্দের সিমা নেই। এতো আর্থিক অনটনের মাঝেও অদম্য চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ইমনের এই সাফল্য অনেকের কাছেঅনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ইমন আলী পুঠিয়া উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা চা দোকানদার আব্দুল আজিজের ছেলে। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া ইমন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। চা দোকানের আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া আব্দুল আজিজের জন্য ছিল কঠিন সংগ্রাম। তবুও কখনো হাল ছাড়েননি তিনি কিংবা তার ছেলে ইমন।

২০২৩ সালে পুঠিয়ার ধোপাপাড়া হাইস্কুল থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এসএসসি পাশ করেন, এবং ২০২৫ সালে রাজশাহী সিটি কলেজ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে পাশ করেন এবং চলতি বছরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ঢাকায় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইমন আলী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পান। এই খবর জানাজানি হলে এলাকায় খুশির জোয়ার বইতে শুরু করে। ইমনের সাফল্যের খবর পৌঁছায় রাজশাহীর পুঠিয়ার বেসরকারি মিডিলাইপ হাসপাতালের মালিকের কাছেও। তিনি প্রথম বর্ষের বই ও অনুদান তুলে দেন ইমনের হাতে।

মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মিডিলাইপ হাসপাতালের মালিক মেহেদী হাসান প্রথম বর্ষের বই তুলে দেন মেধাবী ঈমানের হাতে। তিনি জানান, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়ুক, এটা আমরা চাই না। ইমন যেন নির্বিঘ্নে পড়াশোনা শেষ করে একজন ভালো চিকিৎসক হতে পারে, সেই দায়িত্ব আমরা নিতে চাই।

এই সহযোগিতায় আব্দুল আজিজ ও তার পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। আল্লাহ মানুষের মাধ্যমে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ইমন আলীর এই সাফল্য এবং মিডলাইপ হাসপাতালের মালিকের সহযোগিতা সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে। দরিদ্র কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে দেশ পাবে আরও মানবিক ও যোগ্য চিকিৎসক।

বর্তমানে ইমন আলী মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে একজন মানবসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

Ads