ইউটিউব দেখে চায়না কমলা চাষে সফল আতাউর

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
ইউটিউব দেখে চায়না কমলা চাষে সফল আতাউর

গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে চায়না কমলা। বিদেশের কোনো ফলের বাগান নয়, এটি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ধনী পাড়া গ্রামে অবস্থিত। ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আতাউর রহমান বাড়ির পাশে ৩০ শতাংশ জমিতে মাটি ভরাট করে গাছ লাগিয়েছেন। এক বছর পর সেখানে পর্যাপ্ত ফলন হওয়ায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত ৩ বছর ধরে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রি করে আসছেন তিনি।

বাবা মিজানুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ৬০টি ছোট গাছ সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে ৩০ শতাংশ জমিতে মাটি ভরাট করে চারা রোপন করে। প্রায় ২ বছর পরিচর্যা করে গত ২০২১ সাল থেকে ফলন শুরু হয়। প্রথম বছর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেন।

২০২২ সালে দেড় লাখ ও ২০২৩ সালে এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। ২০২৪ সালে আড়াই লাখ ও ২৫ সালে এখন পর্যন্ত ২ লাখ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

মিজানুর আরো জানান, আরো প্রায় ১ বিঘা জমিতে ১০৫টি গাছ লাগিয়েছেন। নতুন গাছগুলোয় ফল ধরা শুরু হলে আগামীতে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

আতাউর রহমান জানান, বাবার জমি জায়গা আছে, কিন্তু তিনি ছিলেন বেকার। ২০১৯ সালে ইউটিউবে দেখেই আগ্রহ জাগে তার। পরে চুয়াডাঙ্গা থেকে চারা এনে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মাটি, সার ও ওষুধ দিয়ে বাগানটি তৈরি করা হয়।

কমলা বাগান করে তিনি সার্থক হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, তার কমলা বাগান দেখে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার যুবকরা কমলা ও মালটা চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে অনেকেরই বেকারত্ব দুর হয়েছে। শিক্ষিত যুবকদের চাকরির পিছনে না ছুটে কমলা বা মালটা চাষাবাদ করে এক বছর থেকে প্রত্যেকেই স্বাবলম্বী হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভুষন রায় এ বিষয়ে বলেন, সৈয়দপুরে কমলার বাগান এটি আসলেই খুশি ও আনন্দের। তিনি আতাউরকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।

 

Ads