সৈয়দপুর-চিলাহাটি রুটে অরক্ষিত ২৩ রেলগেট ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু -১৪ জন

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুর-চিলাহাটি রুটে অরক্ষিত ২৩ রেলগেট ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু -১৪ জন

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেলপথের উপর দিয়ে পারাপার করায় প্রাণহানি ঘটছে সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত রেলপথে। অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো ক্রমেই বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ক্রসিং দিয়ে পারাপার করছেন, ফলে প্রায় প্রতি বছরই বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা।

রেলওয়ে তথ্যমতে, সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৩৬টি। এর মধ্যে মাত্র ১৩টিতে গেটম্যান থাকলেও বাকি ২৩টি অরক্ষিত। দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্রসিংয়ে স্থায়ী রেলগেট, স্বয়ংক্রিয় সংকেত বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

প্রতিদিন এই রেলপথের ক্রসিংগুলো দিয়ে সাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত যান, সিএনজি, ট্রাক্টর, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও মিনিবাসসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করে। কিন্তু ট্রেন আসার আগাম সতর্ক সংকেত না থাকায় সামান্য অসাবধানতায় প্রাণহানীর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাত ও কুয়াশাচ্ছন্ন সময়ে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার (জিআরপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৩টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালে একই রেলপথে প্রাণ হারান ২৪ জন। তবে স্থানীয়দের মতে, গত তিন বছরে সৈয়দপুর – চিলাহাটি রেলপথে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অনেক দুর্ঘটনা থানায় নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত প্রানহানীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

অতীতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এখনো এলাকাবাসীর মনে গভীর দাগ কেটে আছে। ২০২১ সালে নীলফামারী সদর উপজেলার মনশাপাড়া এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিন ভাইবোনসহ চারজনের মৃত্যু হয়। আবার ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নীলফামারীর দারোয়ানী এলাকায় অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন ইপিজেডকর্মী নিহত হন। এসব ঘটনার পর ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়লেও কার্যকর সমাধানের কোন ব্যবস্হাই নেয়া হয়নি।

সৈয়দপুরের ঢেলাপীরের বাসিন্দা আরিফুল হক বলেন, রেলক্রসিংগুলোতে যেমন নেই গেটম্যান, তেমনি নেই রেলগেট বা কার্যকর সিগন্যাল। শুধু কয়েকটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। সৈয়দপুরের অটোরিকশা চালক আতিয়ার রহমান জানান, বিশেষ করে রাতে ট্রেন আসার কোনো আগাম কোন আভাস পাওয়া যায় না। ওইসময় সামান্য অসাবধানতা হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মনে করছেন, গেটম্যান নিয়োগ, স্বয়ংক্রিয় রেলগেট, আলো ও আধুনিক সতর্ক সংকেত ব্যবস্থা চালু না করলে এসব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জনবল ও বাজেট সংকটের কারণে সব ক্রসিংয়ে গেটম্যান দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ উন নবী বলেন, ২০২৫ সালে ট্রেনে কাটা পড়ে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে অপমৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Ads