বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারনে জাতীয়পার্টির প্রার্থী দিকে ছুটছে ভোটার

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারনে জাতীয়পার্টির প্রার্থী দিকে ছুটছে ভোটার

সৈয়দপুর – কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। দেশ স্বাধীনের পর সৈয়দপুরে আটকে পড়া উর্দু ভাষী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় তিন বার ভোটাদের আয়ত্তে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি আয়ত্ব রেখেছে পাঁচ বার, বিএনপি দুইবার, স্বতন্ত্র একবার ও ন্যাপ একবার। আর জামাত কোন বারই আসন পায়নি।

এবারে ভোটাররা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ গ্রহন না করায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে এ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বেশ চাপে পড়েছেন দলটির প্রার্থী। মূলত এ সুযোগই কাজে লাগতে চান জাতীয় পার্টি। কারন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জোট হয়ে নির্বাচন করেছে দলটি।

সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ও কিশোরগঞ্জের ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৭ ও নারী ২ লাখ ২৬ হাজার ৭২৮ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫জন।

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা মতে, এবারে আওয়ামীলীগের প্রার্থী না থাকায় আসনটি বিএনপির দখলে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা কম পক্ষে ৩০ হাজার ভোট পেতে পারে। আর এসব ভোট ধানের শীষের ভোটাররাই দিতে পারে। এমন হলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঝুড়ি থেকে ৩০ হাজার ভোট কমে যাবে। কিন্তু যেহেতু আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই সেহেতু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের অংশিদার জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগ সমর্থকের ভোট পেতে পারে।

এই আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গফুর সরকার। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলটির দুই নেতা। এদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মামুনুর রশীদ মামুন। এছাড়া জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন হাফেজ মাওলানা মুনতাকিম। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ছাড়াও ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা শহিদুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মোঃ শওকত আকবর রওশন স্বতন্ত্র জোবায়দুর রহমান হিরা।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বিএনপি থেকে দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এই দুই জন ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোষর এক প্রার্থীর হাতকে শক্তিশালী করতেই বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে লাভ নেই, যদি নির্বাচন সুষ্ঠ হয় এবং ভোট গননায় কারচুপি না হয়, তাহলে বিএনপির প্রা্র্থী আব্দুল গফুর সরকার বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।

নেতা কর্মীরা বলেন, বিগত ১৭ বছরের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের ফসল হলো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন সারা দেশে তাদের পক্ষে সৃষ্টি হওয়া গণজোয়ারে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে। আসনটিতে ধানের শীষ জয়ী হবেই হবে।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলীয় প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার বলেন, ‘গণমানুষের দল বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে। এ কারণেই সারা দেশের ন্যায় নীলফামারী-৪ আসনেও ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আমি বিগত ৪০ বছর দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর পাশে থেকেছি, আছি ও থাকবো। ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, কোন এক প্রার্থী নিজের স্বার্থ হাসিল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন জনগণ যদি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ অবহেলিত অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবো।

অন্য দিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে চান জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী শিল্প পতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। দলীয় প্রতীক লাঙ্গলে বিজয় নিশ্চিত করতে সকাল ৮ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মাইক ও শত শত নারী ও পুরুষের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা সহ পোলিং এজেন্ট চুড়ান্ত করে কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নীলফামারী-৪ আসনে মাদক নির্মূল সহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ কারার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন তিনি।

জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শিল্প পতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে তিনি ২০২৪ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকার প্রতিটি গ্রামের মানুষ আমাকে চিনেন ও জানেন। কারন ওই সময় মাত্র ৬ মাসে রাস্তা ঘাট স্কুল কলেজ ও মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন করেছি। ইচ্ছে ছিল ৫ বছর সময় পেলে দেশের মডেল আসনে পরিনত করবো কিন্তু সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রচারনা চালাতে গিয়ে ১ ফেব্রুয়ারী রাত সারে ৭টায় বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব গফুর সরকারের নির্দেশে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে ভোটারের মাঝে লাঙ্গলের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি ভোটারদের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি। তিনি বলেন সারা দেশের কথা বলতে পারবো না তবে ইনশা আল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী-৪ আসনে লাঙ্গলের পক্ষে রায় দিয়ে ভোটাররা তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে ইনশাআল্লাহ।

Ads