একাধীকবার নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াতের প্রার্থী ধারে কাছেও ছিলেননা

সাইদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
একাধীকবার নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াতের প্রার্থী ধারে কাছেও ছিলেননা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে এই প্রথমবারের মতো মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। অতীতে একাধিকবার জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিলেও কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারে কাছেও ছিলেন না এই দলের কোনো প্রার্থী। এবার কতটা আগাবে এ বিষয় দেখার জন্য ভোটাররা অপেক্ষায়।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা ও মাগুরা সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান। তার বিপরীতে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মতিন। মোট সাতজন প্রার্থী থাকলেও ভোটের লড়াই মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

মাগুরা-১ আসনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল মতিনের সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৮ হাজার ৯৮০। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়ে তিনি ওই ভোট পান। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মে. জে. (অব.) এম এ মতিন ৪৫ হাজার ৩৮৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আব্দুল মতিন পান ৬ হাজার ৮৯২ ভোট। আগের বারের তুলনায় তার ভোট আরও কমে আসে।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মাঠের বাইরে থাকেন। সেবার জামায়াতের প্রার্থী লিয়াকত আলী খান ৫ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ওই নির্বাচনে ৭৩ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. এম এস আকবর এমপি নির্বাচিত হন।

২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী মনোনয়ন পাননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আবারও মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল মতিন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় বিএনপির বিপরীতে জামায়াতই হয়ে উঠেছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে অতীতের দুর্বল ভোটের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও এবার আলোচনায় চলে এসেছেন জামায়াতের এ প্রার্থী। তবে প্রাপ্ত ভোট কতগুন বৃদ্ধি পেলে বিজয় হবে তা ভেবে দেখতে হবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ভোটারদের অনেকেই।

নির্বাচনের শুরু থেকেই দলবল নিয়ে এলাকায় নিবিড়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন আব্দুল মতিন। তবে দীর্ঘদিনের শক্ত সংগঠন ও দলের ভোটব্যাংক তাছাড়া প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি থাকা বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন—সেটিই এখন মাগুরা-১ আসনের মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Ads