রাত পোহালেই ভোট কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সামগ্রী

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
রাত পোহালেই ভোট কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সামগ্রী

রাত পোহালেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ-উপলক্ষ্যে রাজশাহীর তানোরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচন সামগ্রী সন্ধ্যার মধ্যেই পৌছে যাবে বলে জানান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ কারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বুঝে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সারা দেশের ন্যায় তানোরেও বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম ও নাশকতা এড়াতে খুচরা দোকানে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করে দেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। চলছে নিয়োমিত টহল ও চেকপোস্ট।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাংখিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। উপজেলায় ৬১ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ৬১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১ টি কেন্দ্র কে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিন্তিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

ভোটারেরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে বাড়িতে যেতে পারেন এজন্য নিয়োমিত যৌথবাহিনির চেকপোস্ট, মোটরসাইকেলসহ গাড়ীর উপর নিষেধাজ্ঞা, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর নিয়োমিত টহলের কারনে এউপজেলায় এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
বুধবার সকাল থেকেই উপজেলার সভা কক্ষ থেকে নির্বাচন সামগ্রী বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি শিব শংকর বসাক, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিএইচও বার্নাবাস হাসদাক ও কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ। সকাল থেকেই মাইকে কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেকে সামগ্রী বুঝিয়ে দিচ্ছেন টিএইচও বার্নাবাস হাসদাক এবং বসে থেকে সামগ্রী বিতরণ সুষ্ঠু করতে তদারকি করছেন ইউএনও এবং এসিল্যান্ড।

বড় ধরনের স্ট্যায়ারিং গাড়িতে করে নির্বাচন সামগ্রী, কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সহ পোলিং এজেন্ট, আনসার পুলিশ সদস্যরা সামগ্রী নিয়ে একেএকে সুশৃঙ্খল ভাবে কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, চমৎকার পরিবেশে প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। সবাই সৌহার্দ্য সম্প্রীতির মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছে। ৬১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১ টি কেন্দ্র কে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিন্তিত করা হয়েছে। তবে এটি একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া মাত্র। সব কেন্দ্রের বিষয়ে নজরদারি থাকবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে।

প্রতি কেন্দ্রে ৯ জন করে পুরুষ মহিলা আনসার সদস্য থাকবে। তার মধ্যে তিনজন অস্ত্র ধারী থাকবে। যৌথবাহিনির নিয়োমিত টহল থাকবে এবং তিনটি মোবাইল কোর্ট টহল দিবে। এছাড়াও কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। রিমোট কন্ট্রোল থাকবে হাতে। কোন ধরনের অনাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটা মাত্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি নির্বিঘ্নে ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার আহবান জানান, কোন ধরনের অপপ্রচারে কান না দেয়ার জন্য ভোটার উদাত্ত আহবানও জানান।

জানা গেছে, ৬১ টি কেন্দ্রে ও ৩৪০ টি বুথে, ৬১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার থাকবেন ৩৪০ জন ও পোলিং এজেন্ট থাকবেন ৬৮০ জন। সাত ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা নিয়ে গঠিত এউপজেলা। এউপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮০ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন ও নারী ভোটার ৮৭ হাজার ৩২৪ জন।

সুত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি থেকে টানা ১০ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৭ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারণা চালিয়েছেন। পাড়া মহল্লায় হাট বাজার গ্রাম গঞ্জে জোরালো ভাবে প্রচারণা চালান প্রার্থী সহ দলীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের শেষ মহড়া হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারী রবিবার বিকেলে জামায়াত বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল ও থানা মোড়ে পথসভা করেন।

গণ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ভোটারেরা উপস্থিত ছিলেন। পর দিন ৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার গোল্লাপাড়া ফুটবল মাঠে ধানের শীষের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। দুই প্রার্থীর নির্বাচনী শেষ মহড়া ছিল। প্রচার প্রচারণায় দুই প্রার্থী নানা ধরনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। এখন ভোটার উপস্থিতি এবং পরিবেশ কেমন থাকবে সেটাই দেখার বিষয়। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ঘাটতি নেই।

Ads