সিরাজগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের মিস ফায়ারে গুলিবিদ্ধ দিনমজুর হাসপাতাল বেডে কাতরাচ্ছেন

আমিনুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের মিস ফায়ারে গুলিবিদ্ধ দিনমজুর হাসপাতাল বেডে কাতরাচ্ছেন

ভোট দিতে গিয়ে পুলিশের শটগান থেকে মিস ফায়ারিংয়ে গুলিবিদ্ধ দিনমজুর আব্দুল মোতালেব কাজী ৫ দিন ধরে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন।

গত রবিবার বিকেলে তাকে দেখতে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি গুলিবিদ্ধ মোতালেবের খোঁজখবর নেন। তিনি আহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যমাসগ্রী তুলে দেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খান এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।

মোতালেব কাজী সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের বড় কয়রা গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন কাওয়াখোলা ইউনিয়নের মুজিবকেল্লা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় পুলিশের মিসফায়ারে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মোতালেব কাজী ভোট দিয়ে কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত কনস্টেবল ওয়াহাব আলীর শটগানের গুলি এসে মোতালেবের দুই পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের দিন দায়িত্বরত কনস্টেবল ওয়াহাবের শটগান থেকে মিস ফায়ারিং হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব কাজী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. নাজরান রউফ জানান, ওই ঘটনায় কনস্টেবল ওয়াহাব আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (ক্রাইম এন্ড অপস) প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ছে। তদন্ত কাজ চলছে।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিমুল তালুকদার বলেন, মোতালেবের দুই পায়ে অস্ত্রপচার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র দিনমজুর মোতালেব কাজীকে কিছু আর্থিক সহযোগীতা করা হয়েছে। তার বাড়িটা জরাজীর্ণ। ইউএনওকে বলা হয়েছে টিন দেওয়ার জন্য। এছাড়াও তাকে সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি। এমন ঘটনা গত ৪ দিন ছিলো গণমাধ্যমের আড়ালে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ বা যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তারা এখন পর্যন্ত বিষয়টি জানেন কিনা সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।

 

Ads