ফকিরহাটে বোরো চাষে জৈব বিপ্লব: প্রশিক্ষণ–প্রণোদনায় সবুজ স্বপ্নের পথে ২০ হাজার কৃষক

ফটিক ব্যানার্জি, ফকিরহাট প্রতিনিধি (বাগেরহাট)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে বোরো চাষে জৈব বিপ্লব: প্রশিক্ষণ–প্রণোদনায় সবুজ স্বপ্নের পথে ২০ হাজার কৃষক

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চলতি বোরো মৌসুমে বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও জৈব সারের ব্যবহারে উপজেলার কৃষকেরা এবার ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ মৌসুমে ৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক ধান আবাদ করছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার কৃষককে উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত জাতের ধান চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০ জন কৃষককে হাইব্রিড এবং আরও ১০০ জনকে উফশী জাতের ধানের জন্য সার ও বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ধান রোপণের আগে মাটি পরীক্ষা এবং সেচের পানির লবণাক্ততা নিরূপণ করে জমি উপযোগী জাত বাছাইয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠে মাঠে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

এবারের মৌসুমে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষিত স্থানীয় উদ্যোক্তা ফটিক ব্যানার্জির উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করছেন ফিরোজা বেগম, শাহজাহান শেখ, মোহাম্মদ মল্লিক, নজরুল শেখ, রাজু, গনি প্রমুখ চাষি। তাদের দাবি, গত বছর জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের খরচ কমেছে এবং ফলনও হয়েছে ভালো। এতে জমির গঠন উন্নত হয়েছে বলেও জানান তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে আমরা মাটি পরীক্ষা, উন্নত জাত নির্বাচন ও জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছি। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

এছাড়া কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে ধানক্ষেতে গাছের ডাল স্থাপন করে পাখির মাধ্যমে পোকা দমন পদ্ধতিও অনুসরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ফকিরহাটে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হতে পারে।

Ads