ভোগান্তিতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা, ভোলার বাজারে ছেঁড়া ও পুরনো টাকায় সয়লাব

শরীফ হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
ভোগান্তিতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা, ভোলার বাজারে ছেঁড়া ও পুরনো টাকায় সয়লাব

ভোলার বাজারের সর্বত্র ছেঁড়া, পুরনো ও ময়লাযুক্ত নোটে (টাকায়) সয়লাব হয়ে পড়েছে। এ পুরনো নোটগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশিরভই ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা ও ২০ টাকা। ফলে কেনা-কাটায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সমস্যায় পড়তে হয়। ছেঁড়া টাকা না নেয়া ও রাখা সবমিলিয়ে ক্ষতিতে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। দ্রুত বাজারে নতুন নোটের সরবরাহ করতে কর্তৃপক্ষের নজরদারী কামনা করছে ব্যবসায়ীরা।

দেশে কাগজের নোটের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি হলেও এসব নোটের স্থায়িত্ব অত্যন্ত কম। সাধারণত ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে নোট ছেঁড়া, ফাটা ও ময়লাযুক্ত হয়ে পড়ে এবং ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। গ্রাহকের হাত ঘুরতেই অল্প সময়ের মধ্যে নোটের এই করুণ দশা তৈরি হয়। তুলনামূলকভাবে কয়েন দীর্ঘস্থায়ী হলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এর ব্যবহার সীমিত। নতুন নোট ছাপাতে সরকারের ব্যয় হয় কয়েকশ কোটি টাকা।

নতুন নোট বাজারে না আসায় প্রতিদিনই বাড়ছে ছেঁড়া-ফাটা নোটের সংখ্যা। অনেক নোট এমন অবস্থায় পৌঁচেছে যে তা দিয়ে স্বাভাবিক লেনদেনও সম্ভব হচ্ছে না। দোকান, বিপণিবিতান, ব্যাংক, এমনকি এটিএম বুথ থেকেও বের হচ্ছে পুরোনো ও ময়লাযুক্ত নোট। ফলে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে, অনেক ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে সরাসরি আর্থিক ক্ষতি।

ভোলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. মুসা বলেন, ছেঁড়া নোট নিয়ে প্রতিদিনই বাজারে সমস্যা দেখা দেয়। ক্রেতারা ছেঁড়া টাকা দেন, কিন্তু আমরা দিলে নিতে চান না।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জসিম জানান, বাজারে ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটগুলো একেবারেই পুরনো ও ছেঁড়া। ফলে খুচরা টাকা দিতে না পারায় ব্যবসায়ে নানা সমস্যা হচ্ছে।

ঔষধ ব্যবসায়ী উৎপল গুহ বলেন, অনেক সময় বিক্রি-বেচার মধ্যে অনেকে পুরনো ও ছেঁড়া নোট দিয়ে যান, যা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। পরে হিসাবের সময় এসব নোট আলাদা করে রাখতে হয়। ব্যাংকগুলোও এই টাকা নিতে চায় না, ফলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

অটোচালক ইব্রাহিম জানান, ছেঁড়া নোট নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে বাগ-বিতণ্ডা হয়। অনেক সময় এসব নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সবাই ছেঁড়া টাকা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন বা টাকশাল নতুন নকশার নোট ছাপানোর কাজ শুরু করতে পারে। প্রথম ধাপে ২০, ৫০ ও ১ হাজার টাকার নোট ছাপানো হবে। পরে ধাপে ধাপে এসব নোট ব্যাংকের মাধ্যমে বাজারে আসবে।

সাধারণত দুই ঈদ- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা-কে কেন্দ্র করে নতুন নোট বেশি ইস্যু করা হয়। তবে সব কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকায় গত বছর হঠাৎ নতুন নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত বিপুল পরিমাণ নোট জমা থাকলেও একসঙ্গে সেগুলো বাতিল করে নতুন নোট ছাপানোর সক্ষমতা টাকশালের নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোগান্তি কমাতে বিদ্যমান নোটগুলো দ্রুত বাজারে ছাড়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, আগে ডিজাইন অপরিবর্তিত রেখে শুধু নোট ছাপানো হতো। এবার নতুন নকশার জন্য দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পীদের পারিশ্রমিক দিতে হবে, যা আগে ছিল না। সব ধরনের নোট নতুন নকশায় ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে সব নোট বাজারে আসবে না, তবে পর্যায়ক্রমে আসবে। এতে নোটের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যয়ও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

নতুন নোট সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের দাপট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কার্যকর নোট ব্যবস্থাপনা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না এলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

Ads