রৌমারীতে প্রতারণামুলক জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী প্রতিনিধি (কুড়িগ্রাম)ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
রৌমারীতে প্রতারণামুলক জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ

দলিল লেখক ও স্থানীয় এক নেতার যোগসাজসে প্রতারণামুলক দুই শতক জমির পরিবর্তে ২০ শতক জমি রেজিস্ট্র করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অহেদ আলী ও মন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে। দলিল বাতিল করে জমি ফেরত চেয়ে বিচারের দাবীতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী পরিবার। বিচার না পেয়ে অবশেষে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটি। এরকম ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে ওই এলাকায়।

ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রাম এলাকায়। অভিযোগ, স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতার গ্রামের নবীর হোসেন এর কাছ থেকে তারই চাচাতো ভাই অহেদ আলী ও মন্টু মিয়া তফশিল বর্ণিত খতিয়ান ১৫৭, দাগ নং ৫১৩৬, ৫১৩৮, ৫৫৫৪, জমির পরিমাণ ২০ শতক। উক্ত জমি থেকে দুই শতক জমি ১ লক্ষ টাকা মুল্য নির্ধারণ করেন এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ বিক্রেতাকে দেন। ওই সময়ে উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে দলিল লেখক আবুল হাশেম, স্থানীয় মাতাব্বর আবু তালেব ও মিজানুর রহমান মিলে পরিকল্পিত ভাবে বিক্রেতাকে না জানিয়ে গোপনে দুই শতকের স্থলে ২০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন, পাশাপাশি নাম খারিজের জন্য আবেদনও দেন তারা।

দুই শতক জমির মুল্য অনুযায়ী নবীর হোসেন বাকি ৫০ হাজার টাক অহেদ আলী ও মন্টু মিয়ার কাছে চাইতে গেলে তারা নানা টালবাহনা করতে থাকে। এরই মধ্যে প্রতারণামুলক ২০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করার বিষয়টি বিক্রেতা নবীর হোসেন ও তার শরিকরা জানতে পারেন। এনিয়ে একাধীকবার গ্রাম্য শালিস ডাকা হয়। এতে কোন সমাধান না হওয়ায় নবীর হোসেন বাদী হয়ে প্রতারক ফজর উদ্দিন, মিজানুর রহমান ও আবু তালেবকে অভিযুক্ত করে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও ওই জমির খারিজ না দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) কে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন নবির হোসেনের
ছেলে মো. রঞ্জু মিয়া।

গ্রাম্যমাতাব্বর মো. আবু তালেব মিয়া জমির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু টাকা লেনদেনের সময় ছিলাম। সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, এবিষয়ে আবেদন পেয়েছি, যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওছার আলী জানান, অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত করার জন্য দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads