সুন্দরগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিপক্ষের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ

একেএম শামছুল হক, সুন্দরগঞ্জ, প্রতিনিধি (গাইবান্ধা) ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
সুন্দরগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিপক্ষের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একাব্বর আলী (৭০) হত্যার ঘটনার পর আসামিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট, জমির ফসল তুলে নেওয়া এবং বোরোধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকা গ্রামের ঝাঁকুয়াপাড়ার একাব্বর আলীর সাথে ভাগি-শরিকদের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা, বাঁশ ও কোদাল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে চাষাবাদ শুরু করে। একাব্বর আলী এতে বাধা দিলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

পরে বাড়ির সামনে তাকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক একাব্বর আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ রাতেই তিনি মারা যান।

এঘটনায় নিহতের ছেলে নুর আলম মিয়া বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আব্দুল মতিন মেম্বারের স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম (৫০), মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী মোছাঃ স্বপ্না বেগম (৪৮), মৃত আজিজল হকের স্ত্রী মোছাঃ নুরজাহান (৬৫) ও মিজানুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ রেনু বেগম (৩৮)কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর আসামীপক্ষের লোকজন গা ঢাকা দেওয়ার ঐ সুযোগে বাদিপক্ষের লোকজন আসামিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুট করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামী আব্দুল মতিন মেম্বারের ঘরে থাকা মালামাল লুট করা হয়েছে।

যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এতে রয়েছে স্বর্ণ, নগদ টাকা, ফ্রিজ, স্টিলের আলমারি, ডাইনিং টেবিল, ওয়াল কেবিনেট, গ্যাস চুলা, সেচ মটর, মোটর, ধান, ধান মাড়াই মেশিন, শোলা মেশিন, পুকুরের মাছ, এলইডি টিভি, গরু, হাঁস-মুরগি এবং দলিলপত্রসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র। এছাড়া তার তিন ছেলের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে যথাক্রমে মিজবাহুর রহমানের ৪ লাখ ৩০ হাজার ৭১০ টাকা এবং মিজানুর রহমানের ৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৫০ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে জানাযায়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, আসামি আব্দুল মতিন মেম্বারের প্রায় ১ বিঘা জমির আলু তুলে নিয়ে গেছে এবং তাদের প্রায় ১০-১২ বিঘা জমিতে বোরোধানের চারা রোপণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে তারা মারাত্মকভাবেং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম,ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, দুপক্ষের জমি নিয়ে বিরোধে একাব্বর আলী (৭০) জনের নিহত হয় এবিষয়ে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

এ ঘটনার জেরেই নিহতের পরিবারের লোকজন প্রতিশোধেরআগুনে জ্বলতে থাকে একপর্যায়ে গত বুধবার স্থানীয় কয়েকজন মিলে প্রতিপক্ষের বাড়ীতে ভাংচুর চালায় পুলিশ খবর পেয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করি তবে এবিষয়ে এখনো কোনো অভিয়োগ পাইনি। তবে হত্যা মামলায় বাকি আসামীরা পালাতক রয়েছে আমরা চেষ্ঠা চালাচ্ছি।

Ads