সৈয়দপুরে হঠাৎ বৃষ্টি, ২২টি ভাটার ৫০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে হঠাৎ বৃষ্টি, ২২টি ভাটার ৫০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে ২২টি ইটভাটার প্রায় ৫০ লাখ তৈরি করে রাখা কাঁচা ইট বিনষ্ট হয়েছে। এতে করে ইটভাটা মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে (১২ মার্চ) বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে ওই ইটগুলো নষ্ট হয়। আমের মুকুল ও উঠতি আলু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা এলাকায় ইটভাটা মালিক মো. সোহেল রানার ইটভাটায় তৈরি করে রাখা চারলাখ কাঁচা ইট হঠাৎ বৃষ্টিতে গলে যায়। তিনি বলেন, কিছু বুঝে উঠার আগে এ ধরণের বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তাঁর। বর্তমানে পোড়া ইট বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।

সরজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের পাশে কামারপুকুর ইউনিয়নের ১০টি ইটভাটায় বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি ইটভাটায় বৃষ্টিতে দুই থেকে আড়াই লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। এসব কাঁচা ইট কয়েকদিনের মধ্যে ইটভাটায় পোড়ানোর কথা ছিলো বলে জানা যায়।

ইটভাটা মালিক হারুন-অর রশিদ জানান, বৃষ্টি হতে পারে এমন আভাষ পাচ্ছিলাম। এ কারণে ভাটার অনেক ইট পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়। কিন্ত ঝড়ো হাওয়ার কারণে সেই পলিথিন উড়ে যায়। ফলে বৃষ্টিতে কাঁচা ইটগুলোর অধিকাংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উপজেলার চৌমহনী এলাকার ইটভাটা মালিক ইকবাল হোসেন ভোলা জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে প্রতিটি ইটভাটায় কমবেশি ক্ষতি হয়েছে।

ইটভাটা মালিকের একটি সূত্র জানায়, এ বৃষ্টিতে উপজেলার ২২টি ইটভাটার ৫০ লাখ কাঁচা ইট গলে গেছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইটভাটা মালিকরা। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রোদে শুকাতে দেওয়া কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টির পানিতে গলে গেছে। এ ছাড়া পোড়ানোর আগে সারিবদ্ধ করে রাখা শুকনো ইটগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।

ভাটা মালিকরা বলছেন, বৃষ্টির পানিতে কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে। নষ্ট ইটগুলো আঙিনা থেকে সরিয়ে পুনরায় পানি দিয়ে নরম করে ইট তৈরি করতে হবে। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ—সবদিক থেকেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ইটগুলো গলে কাদা হয়ে গেছে। কিছু কাঁচা ইট খামাল (জড়ো করে) করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এছাড়া চুল্লিতে পোড়ানোর জন্য সাজানো ইটও গলে গেছে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ জানান, এ বৃষ্টি কৃষির কোনো ক্ষতি না করলেও বিলম্বিত চাষের আলু কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ও ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

Ads