সৈয়দপুরে নারীদের হাতে তৈরি হচ্ছে কারচুপির ঈদের পোশাক, যাচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে 

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে নারীদের হাতে তৈরি হচ্ছে কারচুপির ঈদের পোশাক, যাচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে 

রোজার ছুটি চলছে স্কুল কলেজে। এ সুযোগে বাড়তি আয়ের আশায় মেয়ে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকেছে কারচুপির কাজে। ঈদুল ফিতরে কারচুপির শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস, ওড়নার ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। আর রাজধানীর ঢাকার ঈদ বাজারে চাহিদা মেটাতে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৩০ হাজার নারী ধুমসে চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মযজ্ঞ।

গতকাল সৈয়দপুর শহরের উত্তরা আবাসন প্রকল্পে গেলে দেখা যায়, শত শত নারী কাপড়ে কারচুপি বসাচ্ছেন। বিশেষ ফ্রেম পেতে তাতে টান টান করে কাপড় বেধে নারীরা আপন মনে বসাচ্ছিলেন কারচুপি। সেখানে কথা হয় আবাসন স্কুলের পঞ্চম শ্রেনির ছাত্রী কোমলের সঙ্গে, সে জানায় রোজা উপলক্ষে স্কুল ছুটি তাই বোনের সঙ্গে কারচুপির কাজে জড়িয়ে পড়েছি। এতে বাড়তি কিছু আয় হবে। কোমলের বাবা বেঁচে নেই। তার মা বাসা বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করেন। ঈদের কারচুপির কাজ করে ১০ হাজার টাকা আয় করবে সে। যা দিয়ে মা ভাই বোনদের জন্য কিনে দিবে ঈদের কাপড় চোপড়।

আবাসন এলাকায় কথা হয় কারচুপি শিল্পী পারভীন আক্তারের (৩৫) সঙ্গে, তিনি হোটেল শ্রমিক আমিনুর রহমানের স্ত্রী। কাজ করছিলেন মেয়ে বৃষ্টি (১৭) ও ঝর্ণা (১৩) কে সঙ্গে নিয়ে, তিনি জানান, সারা বছরেই কারচুপির কাজ চলে। তবে ঈদে এলে এর চাপ বেড়ে যায়। রোজার মাস তাই স্কুল কলেজ বন্ধ এ সুযোগে মেয়েদেরকে সঙ্গে নিয়েছি। কারচুপির কাজ করে তারাও বাড়তি আয় করবে।

সৈয়দপুর শহরের কাজিহাট, মুন্সিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, ইসলামবাগ, গোলাহাট, রসুলপুর, বার্মাসেল প্রভৃতি মহল্লার বাড়ি বাড়িতে চলছে কারচুপি পোষাক তৈরির কাজ। এছাড়াও উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ি, বাঙ্গালিপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামেও নারী শ্রমিকরা প্রচুর কাজ করছেন।

কারচুপি শিল্পি রোশনি জানান, এ কাজে সৈয়দপুরের শ্রমিকরা অনেক দক্ষ। তাই ঢাকা থেকে প্রচুর অর্ডার মেলে। প্রতিমাসে হাজার হাজার শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিসের অর্ডার আসে আমাদের কাছে। আর ঈদ এলে তো কাজের ফুরসতই থাকে না। চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুনে। তিনি জানান, মহাজনরা ঢাকা থেকে অর্ডার সংগ্রহ করে কাপড় উপকরণ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। আমরা কেবল কারচুপির কারুকাজ করি।

মহাজন আরমান আলী, মো. তারেক ঢাকা থেকে ই-মেইলে অর্ডার গ্রহন করেন পরে নকশা (ডিজাইন) বুঝিয়ে দেন নারী শ্রমিকদের। ঘরে ঘরে গিয়ে দিয়ে আসেন জর্জেট বা শিপন কাপড়ের থান বিভিন্ন রকম চুমকি, রেশমি সুতা, গাম ইত্যাদি। কাপড়ে চুমকি করতে এসব উপকরণের দরকার হয়। মহাজনের অর্ডার পেলেই শ্রমিকরা রাত দিন ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারচুপির কাজে। তিনি বলেন, কাপড়ে কারচুপি বসিয়ে একজন নারী শ্রমিক দিনে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করে।

সৈয়দপুর কারচুপি সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকার বড় বড় শপিংমল ও মার্কেটে সৈয়দপুরের কারচুপির পোশাক বিক্রি হয়। বিয়ে-ঈদে এ পোশাকের অনেক চাহিদা। সৈয়দপুরের ৩০ হাজার নারী শ্রমিক কারচুপির কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও এখন মহা ব্যস্ত কারচুপির কাজ নিয়ে।

Ads