সৈয়দপুরে রংধনু বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের ভীড়

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে রংধনু বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের ভীড়

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঘুরাঘুরির অন্যতম গন্তব্য কুন্দল এলাকার রংধনু পার্ক। ঈদের দিন ও পরের দিন বৃষ্টির কারনে ঈদের খুশী হয়েছিল ম্লান।

তৃতীয় দিনে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে রংধনু পার্কে কেউ এসেছেন পরিবারের সঙ্গে, কেউবা এসেছেন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। গাছের ছায়ায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখির মুর্তি দেখছেন। এভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদুল ফিতরের দিন এই পার্কে হাজির হয়েছেন অসংখ্য বিনোদনপ্রেমী মানুষ।

টিকিট কাউন্টার সংলগ্ন ফুটপাতে দর্শনার্থীর ভিড়, তাই টিকিট কেটে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। গেটের বাইরে ভ্রাম্যমাণ হকারদের জটলাও দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কুন্দল এলাকার রংধনু পার্কে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়।

ঈদের দুই দিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল, তবে ঈদের তৃতীয় দিনে দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়তে থাকে।

দর্শনার্থীরা বলেছেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় রংধনু পার্ক ঘুরতে ভালোই লাগছে তাদের। পাথরের হাতি,বাঘ, ভালুক, হরিণ, সিংহ দেখে অনেকেই যেন ফিরে পাচ্ছেন শৈশবের দিন। পার্কের প্রধান ফটকের পাশেই লোহার ব্রিজ। ব্রিজ পার হলেই পাথরের হরিণ, বানর, হাতি সহ অনেক পশু পাখির মুর্তি।

এসব দেখতে শিশুদের আগ্রহটা একটু বেশি দেখা যায়। বাঘ, সিংহ, জিরাফ, ময়ূরের মুর্তির সাথে ইন্জিন চালিত ট্রেন, নাগড় দোলা ও সুইমিং পুলে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

ও বাঘ মামা ও সিংহ মামা’ ডাকও শোনা যায় অনেক শিশুর মুখে মুখে। খাঁচায় বিশ্রামরত পশু-পাখি দেখে খুশি দর্শনার্থীরা। বানর, কুমির, ও পাখির কাণ্ড দেখে যেন আনন্দের শেষ নেই তাদের।

নীলফামারী সদর থেকে দুই যুবক ও দুই যুবতি বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন জয়নাল আবেদীন হিরু। তারা কেউ সৈয়দপুর ডিগ্রি কলেজ ও নীলফামারী সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। জয়নাল আবেদীন বলেন, রংধনু পার্কে হরিণ, বাঘ, পাখি ও হাতির মুর্তি দেখে ভালোই লাগছে।

বেশি ভালো লেগেছে ইঞ্জিন চালিত ট্রেন, সুইমিং পুল ও নাগর দোলা। এছাড়া এই পার্কে মুখরোচক খাবারের অভাব নেই।

দর্শনার্থীদের অনেককে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে দেখা যায়। কেউ আবার লেকের ধারে গাছের ছায়ায় নিরিবিলি বসেছিলেন। কেউ বাসা থেকে আনা খাবার খাচ্ছেন।

সৈয়দপুরের প্বার্শ্ববর্তী তারাগন্জ থেকে থেকে দুই মেয়ে নিয়ে এসেছেন রাজু আহমেদ নামের এক ব্যাক্তি। তিনি বলেন, এই দুটোই আমার মেয়ে। ছোট মেয়ে ক্লাস পাইভ এ পড়ে। আর বড় মেয়ে পড়ে নবম শ্রেণিতে। বলেছিলাম পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে সৈয়দপুরের রংধনু পার্কে নিয়ে যাবো। এবার পরিক্ষায় তারা দুজনেই রেজাল্ট ভালো করেছে, তাই রংধনু পার্কে নিয়ে এসেছি। মেয়েরা হাতির মুর্তি, ইঞ্জিন চালিত ট্রেন ও নাগরদোলা দেখে ও চড়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছে।

রংধনু পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুসহ সব বয়সী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্হানীয় অনেককে মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন।

ঈদের দিন ও পরের দিন বৃষ্টির কারনে দর্শনার্থী না হলেও তৃতীয় দিন থেকে লাখ খনিক দর্শনার্থী সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরো বলেন, আগামীতে বড় বড় লোহার খাঁচা তৈরী করে জীবিত পশু পাখি রংধনু পার্কে আনা হবে বলে জানান তারা।

Ads