ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০ জন

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০ জন

এবারের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে (১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ) দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতের মধ্যে নারী ৪৬, শিশু ৬৭।

১৪৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১১৬ জন, যা মোট নিহতের ৩৮.৯২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮.৩৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৪৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৫.৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৬ জন, অর্থাৎ ১২.০৮ শতাংশ।

এই সময়ে ১১টি নৌ-পথ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত,২৩ আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত এবং ২০৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র:

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১১৬ জন (৩৮.৯২%), বাস যাত্রী ৪১ জন (১৩.৭৫%), ট্রাক-পিকআপ আরোহী ১৩ জন (৪.৩৬%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২০ জন (৬.৭১%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৫০ জন (১৬.৭৭%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৯ জন (৩.০২%) এবং বাইসাইকেল আরোহী ২ জন (০.৬৭%) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন:

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৫টি (৩০.৮৩%) জাতীয় মহাসড়কে, ১৬১টি (৪৩.১৬%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৮টি (১২.৮৬%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৪২টি (১১.২৬%) শহরের সড়কে এবং ৭টি (১.৮৭%) ফেরিঘাট-সহ অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন:

দুর্ঘটনাসমূহের ৯৬টি (২৫.৭৩%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৫২টি (৪০.৭৫%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৪৯টি (১৩.১৩%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৬৮টি (১৮.২৩%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৮টি (২.১৪%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন:

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-হ্যান্ড ট্রলি-ড্রাম ট্রাক ১৯.৫৭%, বাস ১৪.৭২%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যম্বুলেন্স-পাজেরো জীপ ৮.৫৭%, মোটরসাইকেল ২৪.৭৫%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ২২.৩৩%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৬.৭৯%, বাইসাইকেল ০.৬৪% এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২.৫৮%।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা:

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬১৮টি। (বাস ৯১, ট্রাক ৬৪, কাভার্ডভ্যান ২১, পিকআপ ২৪, ট্রাক্টর ৪, হ্যান্ড ট্রলি ১, ড্রাম ট্রাক ৭, মাইক্রোবাস ১১, প্রাইভেটকার ৩২, অ্যাম্বুলেন্স ২, পাজেরো জীপ ৮, মোটরসাইকেল ১৫৩, থ্রি-হুইলার ১৩৮ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪২ (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম), বাইসাইকেল ৪ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৬টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৬.১৬%, সকালে ২৪.৩৯%, দুপুরে ২৩.০৫%, বিকালে ১৭.৯৬%, সন্ধ্যায় ৮.০৪% এবং রাতে ২০.৩৭%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান:

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭.৪২%, প্রাণহানি ২৪.১৬%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫%, প্রাণহানি ১৩.৭৫%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪.৯৩%, প্রাণহানি ২৪.৮৩%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩.১৩%, প্রাণহানি ১৩.৪২%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.১৬%, প্রাণহানি ৪.০২%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.৫৫%, প্রাণহানি ৫.০৩%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৭২%, প্রাণহানি ৯.০৬% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.০৪%, প্রাণহানি ৫.৭০% ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১২ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন।

ঈদযাত্রা ও দুর্ঘটনা পর্যালোচনা:

এবারের ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকা থেকে ১ কোটির অধিক মানুষ ঘরমুখী যাত্রা করেছেন এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। পূর্বেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা এবং ঈদের আগে-পরে দীর্ঘ ছুটি থাকার কারণে ঘরমুখী ও ফিরতি ঈদযাত্রায় একমাত্র ট্রেন ব্যতীত সড়ক ও নৌ-পথে ভীড় তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে, যা সরকার রোধ করতে পারেনি। ফলে মানুষের ভোগান্তি

Ads