রৌমারীতে অসময়ে ভয়াবহ ব্রহ্মপত্র নদী ভাঙ্গন, নদীর গর্ভে ঘরবাড়ি ফসলি জমি

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী প্রতিনিধি(কুড়িগ্রাম) ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
রৌমারীতে অসময়ে ভয়াবহ ব্রহ্মপত্র নদী ভাঙ্গন, নদীর গর্ভে ঘরবাড়ি ফসলি জমি

রৌমারীতে অসময়ে ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙ্গনের তান্ডবে ঘুম নেই নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের। ভাঙ্গন আতঙ্কে কাটছে তাদের দিনরাত। ভিটামাটি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা নদী পারের মানুষ।

প্রতি বছর বর্ষাকালে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিলেও এ বছর অসময়ে, অর্থাৎ চৈত্র মাসে শুকনো মৌসুমেই ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সুখের বাতি, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, চরখেদাইমারী, হবিগঞ্জ, রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ, কোদালকাটি, নয়ারচর, বড়বেড়, কির্ত্তনটারী ব্রম্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকা। মাঝে মাঝে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাগন নদী ভাঙ্গন এলাকায় পরিদর্শনে ভাঙ্গন রোধের আশ্বাস দিলেও আসায় গুড়েবালি।

গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুর মোহনগঞ্জ পর্যন্ত চলছে এ ভাঙ্গন। তবে বর্তমানে ভাঙ্গনের ভয়াবহতা চলছে ঘুঘুমারি থেকে সুখের বাতি পর্যন্ত ১ কি: মি:। ভাঙ্গনের তান্ডবে গত ১ সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে ঘুঘুমারি সুখের বাতি গ্রামের অন্তত ০৫ টি ঘরবাড়ি।

ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নেয়াসহ আতঙ্কে জীবন যাপন করছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে সুখের বাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ মাদ্রাসাসহ একাধিক স্থাপনা। এছাড়াও ভাঙ্গন কবলে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অপরদিকে নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে নদী ভাঙ্গন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। তাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধসহ দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।

অসময়ে ভয়াবহ ও আগ্রাসী ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের বিষয়ে কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা সরেজমিনে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Ads