তিস্তার ভাঙ্গন থেকে শেষ রক্ষার চেষ্টা

সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
তিস্তার ভাঙ্গন থেকে শেষ রক্ষার চেষ্টা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদিতে সব হারানোর পরেও নিজ অর্থায়নে প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে তীর রক্ষার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব বয়সী নুরুজ্জামান। তিস্তার তীরে পৈত্রিক সম্পদের শেষ চিহ্ন সাড়ে ৭ শতক বাড়ি ভিটার ৬ু শতক গত বছরই তিস্তা গিলে খেয়েছে। অবশিষ্ট দেড় শতকের উপর বসত ঘরের একাংশেই প্রায় ১ বছর ধরে স্ত্রীকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন চা-বিস্কুটের দোকান দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন নুরুজ্জামান।

২ মেয়ে ও ৪ ছেলের জনক নুরুজ্জামান অনেক আগেই ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা সকলেই পৃথক পৃথক সংসার করে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। ভাগ্যের নির্মম চক্রে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়েই জীবন সায়াহ্নে এসে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে নুরুজ্জামানকে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার মৌজার পাকার মাথায় তিস্তার তীরে বসবাস মোঃ নুরুজ্জামানের।

সরেজমিনে গত রবিবার ( ১২ এপ্রিল ) বিকালে গিয়ে দেখা যায়, নুরুজ্জামান প্রতিবেশিদের সাহায্য নিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য আগাম নিজস্ব খরচে প্রায় শতাধিক প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে তার শেষ ঠিকানা বসত ঘর রক্ষার নিমিত্ত্বে তিস্তার তীরে নিজ অর্থে তৈরি সারি সারি বিছিয়ে রাখা বালুভর্তি বস্তাগুলো পুন:স্থাপন করছেন। কেন এগুলো করছেন ? প্রশ্নের জবাবে জানান, অল্প কিছুদিনের মধ্যে বর্ষার পানি এসে এখানে আঘাত করবে। কোন জায়গায় বেশী আঘাত হানতে পারে, সে জায়গা খুঁজে খঁজে সেখানে বস্তা ভাল করে দেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

অবসরে হাতের কাছে প্রতিবেশীদের কাউকে পেলেই তিনি তিস্তার পানির আঘাত যেখানে বেশি আঘাত হানতে পারে, সেখানেই বেশি বস্তা দিতেই বার বার বস্তার অবস্থান বদলিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি জানান, তিস্তা আমাদের বাড়ি ভিটে ভেঙ্গে নিয়ে যায় প্রায় ৪ বছর আগে। এখান থেকে প্রায় এক কিলো দূরে তিস্তার পেটেই রয়েছে আমাদের আসল ভিটে বাড়ি। এরপর আমার পত্রিক সম্পত্তির শেষ সম্বল সাড়ে ৭ শতক জমির উপর বাড়ি করি ৩ বছর আগে। দুই বছরের মাথায় তিস্তা এখানেও হানা দিয়ে আমার বাড়ি ভিটার ঘরসহ প্রায় ৫ শতক গত বছরই ভেঙ্গে নিয়ে যায়।

গত বছর ভাঙ্গনের সময় ভাঙ্গন রোধে পাউবো কিছু বালির বস্তা ফেলেছিল ঐ এলাকায়। তার কিছু চিহ্ন পাওয়া গেলেও নুরুজ্জামানের ওই জায়গায় পাউবোর বস্তার কোন অস্থিত্য নেই। নুরুজ্জামান আরো জানায়, আমি অনেক কষ্ট করে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর ফোন নাম্বার ম্যানেজ করে কথা বলে আকুতি জানিয়েছি, আমার শেষ সম্বল রক্ষায় কিছু বস্তা দিয়ে সহযোগীতা করতে।

কিন্তু তেমন কোন আশ্বাস না পেয়ে নিজেই প্লাষ্টিকের চালের বস্তা কিনে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা আমার। এ প্রসঙ্গে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, আমি বিষয়টি জানি এবং আমদের লোকজন নুরুজ্জামানের বাড়ি দেখে এসেছে। আমাদের বস্তা অতি শিঘ্রই চলে আসলে নুরুজ্জামান সাহেবের শেষ অবস্থান রক্ষায় কাজ করা হবে।

Ads