নওগাঁর মান্দায় নিম্নমানের উপকরণে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা

মো: ফজলুর রহমান, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁর মান্দায় নিম্নমানের উপকরণে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা

নওগাঁর মান্দায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে একটি সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন। ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটির দরপত্রের শেষে কাজের কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পায় কুষ্টিয়ার “সৈকত এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী জুনের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাজটি শুরুই করা হয়েছে এ বছরে। প্রটেকশান ওয়াল নির্মাণের জন্য কিছু নিম্নমানের পিলার সড়কের বিভিন্ন পয়েণ্টে ফেলা হয় গত ডিসেম্বরে। তবে গড়িমসি করে কাজ শুরু করা হয় ভোটের সপ্তাহ পরে চলে ১৬ মার্চ পর্যন্ত।

এ সময়ের মধ্যে প্রথমে ৫ টি পুকুর ও ৩টি ডোবায় প্রটেকশান ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রটেকশান ওয়াল দরপত্র অনুযায়ী না করে তড়িঘড়ি করে পুকুর ডোবার পার্শ্বের দুই দিকে ২ ফুট করে ক্রস ওয়াল দেয়ার কথা থাকলে তা দেয়া হয়নি। আবার প্রটেকশান ওয়ালগুলো প্লাস্টারের কথা থাকলেও কেবলমাত্র কিছু কিছু ঘোলা দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে।

আবার যেখানে জরুরি সেখানে না করে সড়কের জমি বাদ দিয়ে ব্যক্তিমালাকানার জমির ডোবার ৩ ফুট দখল করে প্রায় ৭০ ফুট লম্বা প্রটেকশান ওয়াল নির্মাণ করে মহাদেবপুর উপজেলার দুই রাজমিস্ত্রী সহ ৭/৮ জন নির্মাণ শ্রমিক।

অভিযোগই উঠেছে, কাজের শুরু থেকেই সাবঠিকাদার সাতবাড়িয়া এলাকার “মেসার্স নুরজাহান বিকসের” (MNT) মালিক মামুন অর রশিদ (মিলন) নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। এলাকার লোকজনের কোনো বাধা-নিষেধ আমলে নিচ্ছেন না তিনি ও তার গুণ্ডা মাস্তান বাহিনীর লোকজন।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণ কাজে বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বিলের মাটি। এছাড়া পিকেট ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও তাঁর নিজ ইটভাটা থেকে সংগৃহিত নিম্নমানের ভাঙা ২ নং ৩ নং ইট ও চিমনির খোয়া এবং পুরোনো রাস্তা থেকে তুলে আনা পাথর-বিটুমনযুক্ত নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা ঠিকাদারকে সতর্ক করে আসছি। কিন্তু তিনি কারো কোনো কথা শোনেননি। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করলে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে সাবঠিকাদার মিলন বলেন, ‘নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে কাজে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। যদি কোনো উপকরণে সমস্যা থাকে, তা সরিয়ে নেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নেয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

Ads