বিরামপুরে অপহৃত স্কুল ছাত্রী ১৮ দিনেও উদ্ধার হয়নি

মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর প্রতিনিধি (দিনাজপুর) ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
বিরামপুরে অপহৃত স্কুল ছাত্রী ১৮ দিনেও উদ্ধার হয়নি

দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত স্কুল ছাত্রী অপহরণের ১৮ দিন অতিবাহিতের পরও উদ্ধার না হওয়ায় সন্তানকে না পেয়ে কষ্ঠ ও শোকে ভেঙ্গে পড়েছেন অপহৃত ছাত্রীর পরিবার। এবিষয়ে ১৭ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিরামপুর থানায় মামলা হয়েছে, মামলা নং ২০।

বাদী সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার ২ নং কাটলা ইউনিয়নের ভগবতিপুর (শৈলান) গ্রামের মৃত: মফিজ উদ্দীনের ছেলে রব্বানী ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস-এ চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় বসবাস করতেন। বাড়িতে বাদীর ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া কিশোরী কন্যা ও তাঁর শাশুড়ি বসবাস করতেন। ৩ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকায় বাড়িতে বাদী রব্বানীর শাশুড়ির অর্বতমানে প্রতিবেশী বিবাদী মৃত: নবিতুল্লার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন(৪৫) তাঁর তিন ছেলে নয়ন ইসলাম (২৫), নজরুল ইসলাম(২২) ও মাসুদ রানা(২১) একযোগে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক একটি সাদা রঙ্গের মাইক্রবাসে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ সংবাদ পেয়ে বাদী ও তাঁর স্ত্রী ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে শাশুড়ি ও স্বাক্ষীগনের মুখে ঘটনার বিস্তারিত শুনে ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় বিরামপুর থানায় এজাহার করতে গেলে কর্তৃপক্ষ বাদীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক ৬ এপ্রিল ২০২৬ জেলা ও দায়রা জজ, “শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল”, দিনাজপুরে আসামী নয়ন (২৫) তাঁর বাবা মোফাজ্জল হোসেন(৪৫) নয়নের দুই ভাই নজরুল ইসলাম(২২) ও মাসুদ রানা(২১) সহ ৪ জনকে আসামী করে সি.আর ১৫/২৬ নং মামলা দায়ের করেন। মামলার মাননীয় বিচারক থানা অফিসার ইনচার্জ বিরামপুরকে অভিযোগটি এফ.আই.আর হিসেবে গন্য পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

জেলা দায়রা জজ শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, দিনাজপুর এঁর বিচারকের আদেশে বিরামপুুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম সরকার বিজ্ঞ আদালত হইতে প্রাপ্ত বাদীর টাইপকৃত লিখিত এজাহার গ্রহন করেন। তিনি ১৭ এপ্রিল ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ০৩ এর ৭/৩০ ধারা একটো মামলা রজু করেন। এবং ওই মামলাটি সাব-ইন্সপেক্টর (এসে আই) এনামুল হক কে দায়ীক্ত দিয়েছেন বলে মামলার বর্ণিত তথ্য বিবরণীতে রয়েছে। এবিষয়ে বিরামপুর থানার মামলা নং-২০/২০২৬।

ঘটনার বিষয়ে ভগবতিপুর (শৈলান) গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জানান, নয়ন ইসলাম একজন লম্পট প্রকৃতির ছেলে। সে একাধীক মেয়েকে বিবাহ করে তাদের বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তালাকও দিয়েছেন। সে একজন বিকৃত মন-মানষিকতার মানুষ। কিশোরীকে নিয়ে সে আত্নগোপন করেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিরামপুর থানা অফিসার ইনর্চাজ (ওসি তদন্ত) আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলে, আমরা কিশোরীকে উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি। ভিকটিম ও আসামীরা বারবার তাঁদের স্থান পরিবর্ণ করার কারণে তাঁদের গ্রেফতারের বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মহল ৭ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার পূর্বক অপহরণকারীদের গ্রেফতার করে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

Ads