সিরাজগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙ্গছে যমুনার তীর

আমিনুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙ্গছে যমুনার তীর

অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন আর নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্সণের দুটি স্থানে ধসে গেছে। একই অবস্থা হওয়ার উপক্রম হয়েছে আরো বেশ কিছিু স্থানে। ভাঙ্গন রোধে ধসে যাওয়অ স্থানে বালুর বস্থা ও জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে পানি উন্নয়ণ বোর্ড বলছে নদীতে পানি কম আছে তাই আতংকিত হবার কিছু নেই। অপরদিকে স্থানীয়রা বলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে শুস্ক মৌসুমেও নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

উপজেলার কাজীপুর মৌজায় বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল শুষ্ক মৌসুমে কাজিপুর ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর ঘাট, মেঘাই ঘাট, ঢেকুরিয়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীরে এসে আঘাত হানছে। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির স্রোত এসে আঘাত হানছে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষণ এলাকায়। এতে গত শুক্রবার রাতে পলাশপুর ঘাট এলাকায় দুটি স্থানে বেশ কিছু এলাকা নদীতে ধসে পড়ে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০১০ সালে কাজিপুরে যমুনা নদীর পশ্চিম অংশে ডান তীর সংরক্ষণের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাথরের ব্লক আর জিওব্যাগে বালু ভরে নদীর পশ্চিম তীর বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কাজ শেষ হয়। চলতি শুষ্ক মৌসুমে শুক্রবার রাতে দুটি স্থানে বেশ কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বাঁধভাঙা আতঙ্ক বিরাজ করছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমিসহ বেশ কিছু স্থাপনা। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ এলাকা ধসে যাওয়ায় তারা এখন শঙ্কিত।

জানাগেছে,কাজিপুরে প্রায় ৪০টি বালুর পয়েন্ট আছে। এসব পয়েন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার পতনের পর এসব বালুর পয়েন্ট এখন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিদিন এসব বালুর পয়েন্ট থেকে শতশত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে। বালু বিক্রির বড় একটি অংশ যাচ্ছে বিএনপি নেতাদের পকেটে। অথচ বিএনপির কোনো নেতার নামে বালু মহাল ইজারা নেই।

স্থানীয়দের মতে জমিজমা যা ছিল তা অধিকাংশ নদী মধ্যে চলে গেছে। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। নদীতে তো এখন বেশি পানি নেই। তারপরও দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। সারা বছর এ এলাকা থেকে বালু তুলছে। নিষেধ করার লোক নেই। আবার কেউ বাধা দিনে তাকে প্রাণ হারাতে হতে পারে। পলাশপুর ঘাট এলাকার বসতিদের মতে বাড়ির সামনে থেকে সারা বছরই বালু তোলা হয়েছে। যতটুকু জানি, এ এলাকায় কোনো বালু মহাল ইজারা নেই। তারপরও বালু তোলা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ধসে যাওয়া স্থানে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। নদীতে বালু মহাল ইজারা দেন জেলা প্রশাসক। নদীতে বৈধ ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়। যারা অবৈধভাবে বালু তুলছেন আমরা জানতে পারলে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিচ্ছি। বাঁধের ক্ষতি করে কেউ বালু তুলতে পারবে না। নদীতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,বিধিতে বলা আছে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ, গ্যাস পাইপলাইন ও ব্রিজ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। আমরা বলেছি, ইজারা করা এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।

অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি, জরিমানা করেছি। আমরা কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেব না। সড়কের ভেতর দিয়ে পাইপ বসানোর অনুমোদন দিয়েছে সড়ক বিভাগ। কেন দেওয়া হয়েছে এটি জানতে সড়ক বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে স্থানীয় সাংসদ মোঃ সেলিম রেজাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।#

Ads