যশোরে মে দিবসকে ঘিরে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

নজরুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি (যশোর)ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
যশোরে মে দিবসকে ঘিরে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সংহতি ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবীতে আত্মদানকারী শ্রমিকদের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। এটি শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্যের চেতনা বহন করে। দীর্ঘ সময়ের অগ্রযাত্রার পরও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়নি; উন্নয়নের আড়ালে তাদের কষ্টের গল্প আজও চাপা পড়ে আছে।

মে দিবসকে ঘিরে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন রাতদিন নিউজের এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সালমান জামান হিমেল।পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ শাহিন আলম বলেন “সমাজে শ্রমিকদের কষ্ট এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।মে দিবস এ তাদের অবদানের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মান থেকে বঞ্চিত থাকে।

ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার কেয়া বলেন ” পহেলা মে শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি আদায়ের দিন। পোশাক শিল্পে কিছুটা উন্নতি হলেও নির্মাণসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন।

শ্রমিকের জীবন রক্ষায় কেবল আইন নয়, প্রয়োজন কঠোর সরকারি তদারকি ও মালিকপক্ষের সদিচ্ছা। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই মেহনতি মানুষের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক এবারের মে দিবসের মূল অঙ্গীকার। তবেই সার্থক হবে এই দিবসের চেতনা শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ যায়েদ হোসাইন বলেন ” আমাদের দেশের শ্রমিকরা কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে জাতীয় আয়ের ভিত্তি শক্তিশালী করেন।

অন্যদিকে প্রবাসী শ্রমিকরা রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই দুই শ্রেণির সম্মিলিত অবদানই দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতিশীল রাখে। তাই আজকের এই মহান দিনে দেশ এবং প্রবাসের সকল শ্রমিকদের জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা।

ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী দৃষ্টি রাণী পোদ্দার বলেন ” কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা আংশিকভাবে নিশ্চিত হলেও এখনো অনেক ঝুঁকি রয়েছে। যৌন হয়রানি, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব ও অভিযোগ করতে ভয়—এগুলো বড় সমস্যা।

আইন ও নীতিমালা থাকলেও সব জায়গায় ঠিকভাবে প্রয়োগ হয় না। নিরাপত্তা বাড়াতে সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ ও নারী-বান্ধব পরিবেশ জরুরি।

Ads