রাস্তার কাজ শেষে বিল প্রদানে ঘুষ দাবী, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ঠিকাদার

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
রাস্তার কাজ শেষে বিল প্রদানে ঘুষ দাবী, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ঠিকাদার

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাস্তার উন্নয়ন কাজ শেষে বিল প্রদানে ঘুষ দাবী করছেন উপজেলা এলজিইডি অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা। কাজের বিলের টাকা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আর কাঁদছেন আলসার রোগে আক্রান্ত ছেলের ঠিকাদার বাবা। এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে ওই ঠিকাদার বাদী হয়ে গাজীপুর এলজিইডি অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা এলজিইডি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের বিষাইদ ও মৌচাক ইউনিয়নের বাঁশতলী এলাকায় দুটি রাস্তার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার দেয় উপজেলা এলজিইডি অধিদপ্তর। লটারীর মাধ্যমে এই দুটি রাস্তার কাজ পায় সেলিম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৩৪ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে বিশাইদ এলাকায় আরএস ফ্যাক্টরীর মোড় হতে বিশাইদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এইচবিবি রাস্তা এবং প্রায় ৪১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঁশতলী এলাকায় নোয়াব মুন্সির বাড়ি হতে বাঁশতলী পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় পর্যন্ত রাস্তা।

অভিযোগ উঠেছে, এ উন্নয়ন কাজ শুরু করার আগেই উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল বাছেদ ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করলে তাকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর ই.কে.এম সেলিম। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কথা বলে দু-ধাপে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন উপজেলা এলজিইডি অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ। এরপর ওই অফিসের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহিম আরো ৭ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করতে তাকেও ৩ লক্ষ টাকা দেন ঠিকাদার সেলিম।

এই ঘুষের বিনিময়ে তারা রাস্তার কাজ কম করার জন্য চাপ দেন। এরই মধ্যে তার বাবা ও ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন ঠিকাদার সেলিম। তার আট বছরের ছেলে সায়মান কবীরের আলসার রোগ শনাক্ত হয়। ফলে ছেলে ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মনস্থির করেন ঠিকাদার সেলিম।

সম্প্রতি তিনি ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাতে দ্রুত দুটি রাস্তার কাজ সমাপ্ত করেন। কাজ শেষে ৪০ লক্ষ টাকা বকেয়া বিল চাইলে তালবাহানা শুরু করে উপজেলা এলজিইডি অফিস। কিন্তু তার দুর্বলতার সুযোগে ওই অফিসের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহিম আরো ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। ওই দাবীকৃত টাকা না দিলে প্রত্যয়নও দিচ্ছেন না।

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ঠিকাদার সেলিম। তিনি ছেলের চিকিৎসার টাকা যোগাতে দিশেহারা হয়ে তার কাজের বকেয়া বিলের টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ও কাঁদছেন। এ ঘটনায় ওই ঠিকাদার ই.কে.এম সেলিম বাদী হয়ে গাজীপুর এলজিইডি অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপরও বকেয়া বিল না পেয়ে সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন আলসার রোগে আক্রান্ত ছেলের ঠিকাদার বাবা সেলিম।

ওই ঠিকাদার ই.কে.এম সেলিম বলেন, কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। কাজ শেষ করার পরেও তারা আরো ঘুষের টাকা না পেয়ে আমার বকেয়া বিল দিতে তালবাহানা করছেন। কিন্তু আমার ছেলে আলসার রোগে আক্রান্ত। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে ভারতে যাওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে কাজের বকেয়া বিল তাড়াতাড়ি পরিশোধ করে চিকিৎসার মাধ্যমে ছেলেকে বাঁচানোর সুযোগ চেয়েছেন ঠিকাদার সেলিম।

অভিযুক্ত উপজেলা এলজিইডি অফিসের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহিম মোবাইল ফোনে জানান, একজন বললেই প্রমাণ হয় না আমি টাকা নিয়েছি। সেটা প্রমাণ করতে হবে। পরে বক্তব্য দিবেন না বলে তার স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। ওই অফিসের সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ জানান, আমার বিষয়ে যে অভিযোগটি করেছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল বাছেদ জানান, এ অভিযোগের বিষয়ে জাহিদ সাহেব অপরাধী। আপনারা উনার সঙ্গে কথা বলেন।

এব্যাপারে গাজীপুর জেলা এলজিইডি অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিবার ফোন দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন ফোন রিসিভ করেননি।

 

Ads