সৈয়দপুরে নিম্নমানের উপকরন দিয়ে সড়ক নির্মাণ

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে নিম্নমানের উপকরন দিয়ে সড়ক নির্মাণ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের শাহপাড়া স্কুল সংলগ্ন আলতাফের বাড়ির পাশে উন্নয়ন কাজের আওতায় প্রায় ২৫০ মিটার সিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই এলাকা গেলে স্হানীয়রা এ অভিযোগ করেন।

স্হানীয়রা বলেন, শাহ পড়া স্কুল সংলগ্ন উপজেলা উন্নয়ন তহবিল ইউডিপিএফ প্রকল্পের আওতায় ২৫০ মিটার সড়কটি নির্মান বাবদ মোট ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৩ টাকা ব্যয়ে কাজটি করে শান্তা স্নেহা কোম্পানির ঠিকাদার, আওয়ামী যুবলীগ নেতা মানিক।

সড়কটি নির্মানে এক নম্বর ইট বিছিয়ে তার উপর ৫ ইঞ্চি থিকনেস সিসি ঢালাই করার কথা থাকলেও নিম্নমানের ইট, লোকাল বালুও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও ৮ ফুট বা ৯ ফুট এবং ১ থেকে ২ ইঞ্চি থিকনেস সিসি ঢালাই দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ সব বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানানো হলে ওই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কবির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েও কোন পদক্ষেপই নেন নাই।

তাঁরা বলেন, যুবলীগ নেতা, ঠিকাদার মানিকের সাথে সহকারী প্রকৌশলী কবির উদ্দিনের বন্ধুত্ব রয়েছে এবং সড়কটি নির্মান কাজের পার্সেন্টেজ চুক্তি থাকায় স্হানীয়দের অভিযোগের কোন মুল্যায়ানই করেন নাই। উপজেলা প্রকৌশলী রেজা রাজু অথবা এলজিডি মন্ত্রনালয় কর্তৃক সঠিক তদন্ত করলেই সড়কটি নির্মানে কতটা দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে তার প্রমান মিলবে বলে জানান তারা।

তারা আরো বলেন, শুধু এই সড়কই নয়, ২০২৪,২০২৫ ও ২০২৬ অর্থ বছরে সৈয়দপুর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর স্কুল সংস্কার, স্কুল নির্মান সহ যতগুলি সড়ক ইট বিছিয়ে সিসি ঢালাই করা হয়েছে এবং হচ্ছে তার বেশির ভাগই দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে এবং হচ্ছে। শুধু মাত্র সহকারী প্রকৌশলী কবির উদ্দিনের সাথে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের সুসম্পর্ক থাকায় উন্নয়নের নামে নিজেদের পকেট ভারি করা হয়েছে এবং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকেই।

এবিষয়ে ঠিকাদার মানিক মিয়া বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী কবির উদ্দিন যেভাবে বলেছেন সেভাবেই কাজ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) কবির উদ্দিন এই কাজের সঠিক কোন তথ্য না দিয়ে বলেন, আপনারা ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে পারেন। এবিষয়ে কোন কথা বলবেন না জানান তিনি।
এবিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজা রাজু বলেন, প্রতিটি ঠিকাদারি কাজের তদন্ত করেই বিল দেয়া হবে। কোন কাজের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে সেটির পুনরায় কাজ বুঝে নেয়ার পরই বিল দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Ads