সৈয়দপুরে ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি ভুতরে বাড়িতে পরিনত, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি ভুতরে বাড়িতে পরিনত, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে বর্তমানে হাসপাতালের ভেতরে আগাছায় ভরে গেছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসা কার্যক্রম না থাকায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত দেশের বিখ্যাত ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান থেকে আসা ফাইলেরিয়া রোগীরা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, উত্তরের নীলফামারী জেলাসহ আশেপাশের জেলায় গলাফোলা ও পা ফুলে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ২০০২ সালে জাপান, কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ধলাগাছ এলাকায়। ওই সময় হাসপাতালটির দায়িত্ব ছিল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমুনোলোজি (আইএসিআইবি) বিভাগের।
সেই সময় হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন ১৮ জন দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে সেবা কার্যক্রম শুরু করেন।

২০০৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নত ও সুনাম ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশ থেকে রোগীরা আসতে শুরু করেন। ২০১২ সালে কমিটির দ্বন্দ্বে হাসপাতালের পরিচালনায় সংকট সৃষ্টি হয়। ভেঙে পড়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। এতে মুখ ফিরিয়ে নেয় দাতা সংস্থাগুলো। ফলে ২০২০ পর্যন্ত হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন নামে এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুয়া চুক্তিনামা করে আবার নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে হাসপাতালটি।

১০১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকরির প্রকার ভেদে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এরপর নিয়োগ প্রাপ্তদের প্রায় বছর খানেক খাটানোর পরও বেতন-ভাতা না দেওয়ায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেন। ২০২৩ সালের ২৬ মে ২৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। ওই সময় আগের বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করায় স্থানীয় লোকজন ও সিভিল সার্জন হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সিলগালা করে দেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে )এ বিষয়ে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এক বছর হয় নীলফামারী সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে এতটুকু জানতে পেরেছি ফাইলেরিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাবের কোনো অনুমোদন ছিল না।

এছাড়া চিকিৎসক, নার্স, টেক নিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতাসহ কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো না। চিকিৎসাসেবা হযবরলভাবে চালিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করা হচ্ছিলো বলে ২০২০ সালে হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে দেশের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি পুনরায় চালু হতে পারে। সেবা পেতে পারে বাংলাদেশ সহ এশিয়া মহাদেশের ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা।
মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন

Ads