সিরাজগঞ্জে ৯ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬ লাখ গবাদি পশু

আমিনুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৯ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬ লাখ গবাদি পশু

ঈদুল আজহার এক মাসেরও কম রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায় কোরবানির জন্য খামারে মোটাতাজা করা হচ্ছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩ টি গবাদি পশু। এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টি। এসকল পশুগুলো বিক্রি হলে অর্থনৈতিক মুল্য হবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। তাই বাড়তি লাভের আশায় পশুর বাড়তি যতœ আর লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। জেলার চাহিদার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করে এখানকার গবাদি পশু।

এদিকে, দফায় দফায় বেড়েই চলছে গো-খাদ্যের দাম। খামারিদের এখন গো-খাদ্যে খরচ বেড়েছে। ন্যায্য মূল্যে গরু বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে বলে জানান খামারিরা। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯ উপজেলায় খামার গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মোটাতাজা করেছে। এবছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ২ লাখ ৯৩ হাজার টি। এই চাহিদা মিটিয়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টি পশু সারা দেশে যাবে। এসব পশু মোটাতাজাকরণে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবার যাতে ব্যবহার না করে এজন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। জেলায় ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশুর হাটের মাধ্যমে এসব গবাদি পশু বিক্রি করা হবে।

তরুণ উদ্যেক্তা ও সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রাণীগ্রাম মহল্লায় অবস্থিত খান এগ্রো ফার্ম এর স্বত্তাধিকারী নির্ঝর খান জানান, কোরবানির ঈদে তারা এসব গবাদিপশু নিজ খামারে বছর জুড়ে গবাদি পশুগুলো লালন-পালনের মাধ্যমে মোটাতাজা করেন। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সবুজ ঘাস খাইয়ে এখানকার পশু মোটাতাজা করা হয়। ছোট বড় গবাদি পশুর খামারের মাধ্যমে এ জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। কিন্তু গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের এবার বড় ধরনের অর্থ নৈতিক ব্যয় হয়েছে। তাই ভারতীয় গরু বন্ধসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কোর বানীর সময় দেশের সীমান্ত সীলকরা হলে তাদের খরচ পুসিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, প্রতিটি উপজেলার খামার পরির্দশন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ ওষুধপত্র দেয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের গো-খামারিরা পশু পালনে সচেতন। খামারিরা পশু পালনে কোন প্রকার ক্ষতি কারক ওষুধ ব্যাবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন। এব্যপারে প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে খামারিদের প্রশিক্ষন দেয় হয়েছে। নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে পশু গুলোর নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং খামারিদের পশু বিক্রয়ের সুবিধার্থে অনলাইনে প্রচার চালানোর ব্যবস্থা করা হবে। হাট গুলিতে ব্যবসায়িদের নিরাপত্তাসহ পশু পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য ভ্যাটেনারী টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলায় ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশুর হাটের মাধ্যমে এসব গবাদি পশু বিক্রি করা হবে।

কোরবানীর হাট বাজার ব্যবস্থাপনা পরিবেশ নিরাপদ ও মহাসড়কে পশুবাহি ট্রাকে কোন চাঁদাবাজি হবেনা এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ি ও ক্রেতাদের।

Ads