একটি রেলক্রসিংয়ে পুরো রেললাইনের গলার কাটা, শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগ

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
একটি রেলক্রসিংয়ে পুরো রেললাইনের গলার কাটা, শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি রেলক্রসিং এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরো ঢাকা-রাজশাহী রেললাইনটি। ওই রেলক্রসিংয়ে কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের বেহাল দশায় কয়েকদিন পর পর যানবাহন ফেঁসে গেলে বন্ধ হয়ে পড়ে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালেও পৃথক সময়ে সেখানে দুটি ট্রাক ফেঁসে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেন ও সড়ক পথের যাত্রীরা। এখানে যানবাহন ফেঁসে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল করলে যেন নিরব ভুমিকায় সংশ্লিষ্টরা।

এলাকাবাসী, যাত্রী, রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেললাইনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢাকা-রাজশাহী রেললাইন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এ রেললাইনটি। প্রতিদিন এ পথে প্রায় ৪০টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে। কিন্তু এ রেললাইনের উপজেলার ভান্নারা, রতনপুর, মাটিকাটা, খাজারডেক, কালামপুর, বক্তারপুর, মাকিষবাথান, গোয়ালবাথান, সোনাখালী, নয়ানগর, ভাইমান টালাবহসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ও অবৈধ প্রায় ১৫টি রেলক্রসিং রয়েছে।

এর মধ্যে কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের সোনাখালী এলাকার রেলক্রসিংটি বৈধ হলেও প্রায় বছর জুড়ে বেহাল অবস্থায় থাকে। ওই রেলক্রসিংয়ের দুই পাশেই সড়কের খানাখন্দ থাকায় ভারী যানবাহন চলাচলে প্রায়ই সমস্যা হয়। বিশেষ করে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় অনেক ট্রাক ধীরগতিতে চলতে গিয়ে মাঝপথে ফেঁসে বিকল হয়ে পড়ে। আর ওই রেলক্রসিংয়ে কয়েকদিন পর পর যানবাহন ফেঁসে গেলে বন্ধ হয়ে পড়ে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ।

এ কারণে প্রায়ই ট্রেন চলাচলে বিঘœ ঘটে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। সেখানকার বেহাল সড়কে যানবাহন ফেঁসে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও যেন টনক নড়ে না রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের। চলতি সপ্তাহে ওই রেলক্রসিংয়ে কয়েকবার যানবাহন বিকল হলেও যেন নিরব ভুমিকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সেখানে অজ্ঞাত যান ফেঁসে গেলে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের একটি ট্রেন থেমে যায়।

এতে ওই রেললাইনে প্রায় দেড় ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে। ওই রাতের পরের দিন বুধবার সকাল সোয়া ৫টার দিকে একই স্থানে বালুভর্তি ট্রাক ফেঁসে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী লালমনি এক্সপ্রেসের একটি ট্রেন থেমে যায়। এ রেললাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে এ রেললাইনের বিভিন্ন রেলস্টেশনে ট্রেন থেমে আবারো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

এছাড়াও কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কেও যান চলাচল প্রায়ই বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারী, ট্রেন ও সড়ক পথের যাত্রীসহ কর্মস্থলগামী মানুষ। এ ঘটনার পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালুভর্তি ট্রাকটি সরানোর চেষ্টা শুরু করে। পরে তারা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রায় ঘন্টাখানেক পর ফেঁসে যাওয়া ট্রাকটি সরিয়ে নিলে রেললাইনে ট্রেন ও সড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগে খামখেয়ালীতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন ও সড়ক পথে যানবাহন চলাচল করছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির মতো ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। তবে এ বিষয়ে জানতে একাধিক কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় উজ্জল মিয়া, নাদিম হোসেন, স্বাধীন মিয়াসহ অনেকেই জানান, এ রেললাইনের মধ্যে সোনাখালী রেলক্রসিংয়ের সড়কটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হঠাৎ করে মেরামত করলেও নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কটি আবার খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এখানে বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই বিভিন্ন যান ফেঁসে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর যানবাহন ফেঁসে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও যেন নিরব ভুমিকায় থাকেন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্থানীয়রা অতিদ্রুত রেলক্রসিং এলাকার সড়কটি সংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলে আর কোনো বিঘœ না ঘটে।

কালিয়াকৈর হাইটেক রেলস্টেশনের মাস্টার খায়রুল ইসলাম জানান, রাতে ওই রেলক্রসিংয়ে গাড়ি ফেঁসে গেলে প্রায় দেড় ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে। এরপর সকালেও একই স্থানে বালুভর্তি ট্রাক ফেঁসে গেলে আবারো ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে সেখানে স্থায়ীভাবে মেরামত করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে গাজীপুর রেলওয়ে উপসহকারী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ রেলক্রসিং এলাকায় গাড়ি আটকে গেলে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় ট্রেন সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এলাকাবাসী যদি ওই সড়কের বিষয়ে লিখিত আবেদন করেন, তাহলে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবগত করে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

Ads