উলিপুরে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান উঠছে না কৃষকের ঘরে

সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
উলিপুরে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান উঠছে না কৃষকের ঘরে

কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলতি বোরো মৌসুমে কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হলেও ধান কাটা শ্রমিকের অভাবে মাঠ থেকে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছে না অনেক কৃষক। এর উপর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় দিগুন দাম দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছে না কৃষকরা। ফলে উপজেলার প্রায় ৬০ ভাগ মাঠের পাকা ধান মাঠেই পরে আছে। আবার অনেকেই ভেজা ধান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে, রৌদ্র না থাকায় ধান শুকাতে পারছে না।

অন্যদিকে, বর্তমান স্থানীয় বাজারে উর্ধ্বে ৭ শত টাকা দরে ধান বিক্রি করে লোকসানের মূখ দেখছে অনেকেই। একদিকে, ধানের দাম কম, অন্যদিকে, ধানা কাটা শ্রমিকের মজুরি দিগুন । শ্রমিক সংকটের কারনে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা শতাংশের স্থলে প্রায় ৩ শত টাকা চুক্তিতে ধান কাটছে অনেকেই।

সরেজমিনে মাঠের অবস্থা দেখতে গিয়ে পৌরসভার শিববাড়ি এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, তার ৫১ শতক জমির ধান কাটতে শ্রমিকদেরকে ১৫ হাজার ৩ শত টাকা গুনতে হয়েছে।

নারিকেল বাড়ির কৃষক হাফিজুর রহমান জমিতেই প্রায় ২০ একর পাকা ধান ফেলে রেখেছেন। শ্রমিক সংকটের কারনেই অনেকেই পাকা ধান মাঠেই ফেলে রেখেছে। শ্রমিক সংকটের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, আগে যেনারা শ্রমিকের কাজ করতেন, তাদের ছেলেরা এখন আর শ্রমিকের কাজ করে না। কেউ ঢাকায় গর্মেন্টসে আবার অনেকেই অটো কিনে রাস্তায়। যার কারণে দিনে দিনে শ্রমিকের সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।

শ্রমিক সংকট ও বেশি দামে শ্রমিক নেয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে অনেক চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। চাষিরা জানান, বাজার দর এমন থাকলে উৎপাদন খরচের টাকাই উঠবেনা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ায় বেশি দামেও শ্রমিক না পাওয়ার কথাও জানান তারা। শ্রমিক সময়মত না পাওয়ায় নি¤œাঞ্চলের জমির ধান নিয়ে অনেকেই বিপদে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে হাইব্রিড ৮ হাজার ৩৯০ হেক্টর, উফসি ১৪ হাজার হেক্টর ও স্থানীয় ১৪০ হেক্টরসহ মোট ২২ হাজার ৫ শত ৩০ হেক্টর জমি বোরো চাষের আওতায় আনা হয়।

এ মৌসুমে ধানের উৎপাদন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭’শ ৭৫ মেট্রিক টন আশা করছে কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্রমতে ৫০ ভাগ ধান কর্তনের কথা বললেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গত বুধবার (১৩ মে) দেখা যায়, মাঠে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ পাকা ধান পরে আছে। অনেকেই নিজেরা কাটা মাড়াইয়ের কাজ করছেন। শ্রমিকদের ভবিুষ্যত প্রজন্ম অধিকাংশই পেশা পরিবর্তন করায় শ্রমিক সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারনে বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র শুক্রবার জানান, জেলায় গত ৭২ ঘন্টায় ৩১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টি, এরকম অবস্থা আগামী ৪৮ ঘন্টা থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন জানান, উপজেলায় বোরো ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া বৈরি আবহাওয়া থাকায় জমিতে থাকা পাকা ধান কৃষকদের দ্রুত কেটে ঘরে উঠানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত ৩ দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমায় কিছুটা সমস্যায় পড়ছে চাষিরা। শ্রমিকের সংকট কাটাতেই উপজেলায় ধান কাটা মারাইয়ের ১২টি কম্বাইন হার্ভেস্ট মেশিন আছে বলেও জানান তিনি। তবে জমিতে কিছুটা পানি জমায় মেশিনে ধান কাটা সমস্যার কথাও স্বীকার করেন।

 

Ads