সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্ধন ছিড়েছে তিন উপজেলাবাসীর

সরওয়ার জাহান, পীরগঞ্জ প্রতিনিধি (রংপুর)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্ধন ছিড়েছে তিন উপজেলাবাসীর

সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্ধন ছিড়েছে গেছে তিন উপজেলার হাজারও মানুষের। পীরগঞ্জ,মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার মানুষের মধ্যে সংযোগ সড়কের নলেয়া নদীর ওপর “ফুলেরজান” সেতু। প্রায় ৪ বছর ধরে সেতুটি’র পাটাতন ভেঙ্গে পড়লেও তা সংস্কার বা মেরামত করা হয়নি। ফলে সেতুটির কারনে ওই সড়কে মাঝারী ও ভারী যানবাহন বন্ধ রয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দু উপজেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মওসুমে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করনে বিপাকে পড়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, পীরগঞ্জ উপ‌জেলা সদর থেকে শা‌নেরহাট ভায়া মিঠাপুকুরের বড়হযরতপুর দিয়ে বৈরতীহাট হয়ে পীরগাছাগামী সড়কের ভগবতীপুর নামক স্থানে ফুলের জান সেতুটি। পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছার সাথে সড়ক যোগাযোগের সহজ সেতু বন্ধন ছিল এই সেতুটি।

সেতুর পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়ায় সে বন্ধন ছিড়ে গেছে। সেতুটি সংস্কারের অভাবে তিন উপজেলার (পীরগঞ্জ,মিঠাপুকুর ও পীরগাছা) হাজারও মানুষ পড়েছে চরম দূর্ভোগে। প্রায় ১৫/২০ কি.মি অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরতে হচ্ছে তাদের। এতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ও গবাদীপশু ক্রয়-বিক্রয়ে পড়েছেন মহাসংকটে।

হযরতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমুল ইসলাম, হযরত আলী, দামোদরপুর গ্রামের লিটন প্রধান বলেন, এটিই আমাদের চলাচলের প্রধান রাস্তা। ব্রীজটি বেঙ্গে যাওয়ায় আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। এই এলাকার কৃষকরা তাদের ফলানো ফসল বেচা-কেনার জন্য এখন প্রায় ১৫/২০ কি.মি অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে হাট-বাজারে নিয়ে যেতে হয়।

মুরগী ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া বলেন, ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ব্যবসা ভাল হচ্ছে না। এখন অনেকপথ ঘুরে মুরগী কিনতে গ্রামে যেতে হয়। এতে খরচও বেড়ে যায়। শানেরহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মান্নান খান বলেন, ব্রীজটি ভাল থাকতে ওই এলাকার মানুষ শানেরহাটে আসায় হাটের দিন ব্যবসা বেশ জমত। ফুলেরজান ব্রীজ দিয়ে মালামাল পরিবহন হয়না, তাই ব্যবসা কমে গেছে।

শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, সেতুটি আমাদের উপজেলায় নয়, পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলায়। আামি হযরতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অনেকবার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি। তিনি বলেছেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর সাংবাদিকদের জনান, ব্রীজটি নতুন করে নির্মানের জন্য ইতিমধ্যে মাটি পরিক্ষা করা হয়েছে। আগামী শুষ্ক মওসুমে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Ads