উলিপুরে পুলিশের উপর হামলা দুই পুলিশসহ চার আহত, আটক দুই

সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
উলিপুরে পুলিশের উপর হামলা দুই পুলিশসহ চার আহত, আটক দুই

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঘর নির্মানের কাজ বন্ধ করতে গেলে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশসহ চারজন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের বিজয়রাম তবকপুর এলাকায়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের বিজয়রাম তবকপুর এলাকার আব্দুল জব্বার ও শামিম আল মামুন সাজুর মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে সাজু গং ওই জায়গায় ঘর নির্মানের কাজ শুরু করলে আব্দুল জব্বার আদালতের শরনাপন্ন হলে বিরোধপূর্ণ জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি হয়। এদিকে, শামিম আল মামুন সাজু (৪৫) গত মঙ্গলবার (১৯ মে) অসুস্থ্যতা জনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন।

বৃহস্পতিবার সাজুর ভাই ও বোনেরা একত্রিত হয়ে আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ওই জায়গায় ঘর নির্মানের কাজ পুনঃরায় শুরু করে। এ ঘটনায় আব্দুল জব্বারের সন্তানেরা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সাজুর ভাই সামিউল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, বোন জ্যোতি বেগম ও জেনি বেগমসহ তাদের স্বজনরা পুলিশকে গালিগালাজ করে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

ঐ সময় থানা পুলিশের এসআই হুমায়ুন কবির ও পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম সহ আব্দুল জব্বারের মেয়ে জাহান আরা বেগম বিজলী (৪৩) ও জান্নাতুল নাঈম (৪০) আহত হন। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা বকসির বাজার এলাকার আঃ সালামের ছেলে মোহাম্মদ এরশাদুল হক (৪৫) ও ধামশ্রেনী ইউনিয়নের বিজয়রাম এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে মমিনুল ইসলাম (৩৪) নামের দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ওদিকে হামলার ঘটনায় আহত চারজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন, জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আক্তারুন নাহার।

ওদিকে, শামিম আল মামুন সাজুর স্ত্রী রিক্তা বেগম ও ছোট ভাই সাব্বির হোসেন বলেন, মামলা মোকদ্দমার চাপে ও প্রতিপক্ষের হুমকি-ধামকির কারনে সাজু ঢাকায় চাকুরিকালীন অবস্থায় গত শনিবার ব্রেন স্টোক করেন।

পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন। সাজুর মত্যুর তিন দিন পর মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজনে বৃহস্পতিবার তাদের বাড়িতে স্বজনরা সবাই একত্রিত হয়। সাজুর তিন এতিম সন্তানের থাকার জন্য কোনো ঘর না থাকায় স্বজনরা উপস্থিত সকলেই ওই ঘর নির্মানের কাজ শুরু করতে বলেন। এতেই ঘটে বিপত্তি। তারা আরও দাবি করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে গালিগালাজ ও হাতাহাতিতে কে বা কাহারা পুলিশের গায়ে হাত দিয়েছে তা আমরা জানি না।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদ ইবনে সিদ্দিক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও পুলিশের উপর হামলা ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

Ads