উলিপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নারীসহ আহত ৩

সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
উলিপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নারীসহ আহত ৩

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় চেয়ারম্যানের হুকুমে নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করে তার লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায়। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী পরিবার রোববার (৩১ মে) থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর এলাকার আলশিয়া শেখের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৬৮) এর সাথে ছোট ভাই আব্দুর রহমানের (৫৫) এর দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল। হঠাৎ করে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে প্রায় ৩০-৪০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

এসময় পরিবারের লোকজনকে কুপিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের উপস্থিতিতে তার লোকজন প্রায় ২ শতাধিক মন ধান, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি, নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ঘটনা প্রত্যক্ষ করে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সহযোগিতা চান। এরপর রাতে উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ আবু বক্কর সিদ্দিক, স্ত্রী সাহিদা বেগম ও ছেলে ফুল মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে রোববার ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে প্রধান আসামী করে ৫জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কোন ধরনের ঘটনা ছাড়াই ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা ও বাড়িঘর লুটপাট করা হয়। এছাড়া আমার স্ত্রী সাহিদার পেটে ছুরি মেরে গুরুত্বর আহত করে। আমরা নিরুপায় হয়ে পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় আমি নিজ বাড়িতে ছিলাম। কোনো কারনে হয়তো আবু বক্কর সিদ্দিক আমার উপর ক্ষেপে আছেন। এ কারনে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে পুলিশ ৩জনকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করায়। এরমধ্যে সাহিদা বেগমের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে এছাড়া অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা স্বীকার করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ আবু বক্কর সিদ্দিক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Ads