পুঁজি সংকটে চামড়া কম কিনছেন সৈয়দপুরের ব্যবসায়িরা

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
পুঁজি সংকটে চামড়া কম কিনছেন সৈয়দপুরের ব্যবসায়িরা

পুঁজি সংকট তাই চামরা কম কিনছেন সৈয়দপুরের ব্যবসায়িরা। এছাড়া ব্যাংক ঋণ ও পাচ্ছেন না তারা। এর ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়িরা । একারনে এবার ঈদ উল আজহায় ইচ্ছে থাকা সত্বেও কম চামড়া কিনছে ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বানিজ্যিক শহর হিসেবে খ্যাত এলাকা হলো

নীলফামারীর সৈয়দপুর। এর ফলে দিনাজপুর বিভাগের চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে আসেন সৈয়দপুর। চামড়া ব্যবসায় সৈয়দপুরের পরিচিত থাকায় এ শহরের একটি এলাকার নাম রাখা হয়েছে চামড়া গুদাম। পাকিস্তান আমল থেকেই উত্তরাঞ্চলে চামড়া ব্যবসার মূল কেন্দ্র হয়ে আসছে সৈয়দপুর শহর। পাকিস্তান আমলে প্রতিদিন সৈয়দপুরে লাখ লাখ চামড়া মজুত রাখা হতো এই শহরে। আর তাই এ শহরের একটি এলাকা চামড়া গুদাম হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে চামড়ার দাম কমে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণে এ এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে পড়ে চামড়ার গুদামগুলোও।

স্থানীয়রা জানান , বিগত এক যুগ আগেও সৈয়দপুর থেকে কোরবানির ঈদে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার চামড়া যেত ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। কিন্তু গত ৮/১০ বছর ধরে চামড়ার মুল্য কমে যাওয়ার ফলে সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা চরম লোকসান গুনছে। গত বছরেও সৈয়দপুরের ব্যবসায়িরা ট্যানারি মালিকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার চামড়া বাকিতে দেয়। ওই টাকা উঠাতে না পেরে চলতি বছর পুঁজি সংকটে পড়ে। অন্য দিকে ব্যাংক ঋণেরও অভাব রয়েছে তাদের। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্বেও কম চামড়া কিনছে ব্যবসায়ীরা।

সৈয়দপুরের ব্যবসায়িদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসা চালু রাখতে ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিয়ত চামড়া দেয়া হয়েছে কিন্তু তারা করোনা শুরুর আগের বছর থেকেই ঠিকমতো টাকা পরিশোধ করছে না। ফলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলেও সব পুঁজি আটকা পড়েছে ট্যানারি মালিকদের কাছে। বছরের পর বছর বকেয়া তুলতে না পেরে অনেকে আদি ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। বর্তমানে হাতেগোনা ১৫/২০ জন চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন সৈয়দপুরে।

শহরের আতিয়ার কলোনী এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সরফরাজ মুন্না বলেন, মূলত ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির চামড়া ক্রয় করে। এরপর ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করে ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্যদের ঋণ পরিশোধ করেন।

তবে কয়েক বছর ধরে ট্যানারি মালিকরা সৈয়দপুরের চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০/১৫ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছেন বলে জানান ।

তিনি আরও বলেন, সরকার চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও, ট্যানারি মালিকেরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনতে চাইছেন না।

আর সৈয়দপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আজিজুল হক বলেন, বিগত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা বকেয়া টাকা পরিশোধ করছেন না। ফলে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না।

এতে ব্যাংকগুলো নতুন করে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে চাইছেন না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ফলে এবার ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

Ads