মাদারগঞ্জ উ/বির প্রধান শিক্ষক(ভার) বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ !

সরওয়ার জাহান, পীরগঞ্জ প্রতিনিধি (রংপুর)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জ উ/বির প্রধান শিক্ষক(ভার) বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ !

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত তিন বছরে বিদ্যালয়ের সোয়া কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে,দায়িত্ব গ্রহনের পর গত ৩ বছরে অসামঞ্জস্য বিল ভাউচার এর মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হক প্রধান ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সমন্ময়ে গঠিত আয়ন ব্যায়ন কমিটির মাধ্যমে নাম সর্ব¯^,ভুয়া এবং কাল্পনিক ব্যয় দেখিয়ে সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

যারা এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন তারা হচ্ছেন- আব্দুল মতিন মন্ডল,ক্যাশিয়ার কান্তি বাবু,মহসিন ও জুলেখা। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ তাজুল ইসলাম শামীম সম্পুর্ন অবৈধভাবে সাময়ীক বরখাস্ত থাকার পর বিদ্যালয়ে যোগদান করে এসব অসামঞ্জস্য দেখতে পান। যার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি সেই সময়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হক।

এ ধরনের বিল ভাউচারের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের পতাকা ষ্ট্যান্ড নির্মান। মাত্র ৫’শ ইটের নির্মান কাজ করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা,৪০ হাজার টাকায় ঘর মেরামত ও রং করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, শিক্ষক কর্মচারিদের বেসরকারি অংশের প্রতি মাসে ৪২ হাজার টাকা হিসেবে দেড় বছরের বিল প্রদান দেখানো হলেও ১ বছরের বিল দিয়ে ৬ মাসের ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা না দিয়ে পকেটে পুরেছেন।

বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটের নামে ৮৫ ট্রলী মাটির ৯৫ হাজার টাকা বিল করা হলেও মাঠে এক কোদাল মাটিও দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের গান তবলা প্রশিক্ষনের জন্য প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও গত ৩ বছরে ২ জন প্রশিক্ষককে মাত্র ১৬ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা সম্পুর্ন তছরুপ করা হয়। ২ জন শিক্ষার্থীর বাইসাইকেল দ্যিালয়ের গ্যারেজ থেকে হারিয়ে গেলে বিদ্যালয়ের তহবীল থেকে ১৩ হাজার টাকায় ক্রয় করে দেয়া হলেও ১০ টি বাইসাইকেল ক্রয়ের ৫৫ হাজার টাকা বিল করা হয়।

এ ধরনের আরও অনেক ভুয়া বিল ভাউচার রয়েছে। স্মরনযোগ্য যে ,বিদ্যালয়ে মোট ৯’শ ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এক সময় শিক্ষার মান অনেক ভাল থাকলেও বর্তমানে সেই অবস্থা আর নেই। দিনে দিনে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। বিদ্যালয় পারিচালনায় অদুরদর্শিতা ও ব্যর্থতার কারনে গত ৩ বছরে শিক্ষার মান নি¤œমুখী হয়েছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে এনএস আই ও ডিএসবি’র ২ জন কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়ে পৃথকভাবে এসব তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা প্রমান পাবার পরেও কোন পদক্ষেপ নেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ তাজুল ইসলাম শামীম বলেন-আগামী জুন মাসে এসব আদ্যপান্ত তদন্ত করা হবে।

তখন যাবতীয় তথ্য জনসাধারনের সামনে তুলে ধরা হবে। কারা এ ঘটনা ও ভাগবাটোয়ারার সাথে জড়িত তাও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হক কে এবং শিক্ষক আব্দুল মতিন মন্ডলকে এ ব্যাপারে ফোন দেয়া হলেও কেউই তা রিসিভ করেন নি।

Ads