ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী।

এছাড়া শিশুসহ সব বয়সী মানুষ জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগেও ভুগছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। ৭ জুন রবিবার সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীই বেশি।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কুলছুম নামের নারী বলেন, আমার ছেলের শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২ দিন আগে ভর্তি করেছি কিন্তু এখন পযন্ত সুস্থ হয়নি। হাসপাতালে যে ঔষধ দেয় তাতে রোগ কমছেই না। ফলে বাইরে থেকে ঔষধ কিনে খাওয়াচ্ছি। ডাক্তার বলছেন নিয়মিত গ্যাস দিতে।

পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা হামিদুল ইসলাম বলেন, তীব্র গরমের কারণেই মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। গত তিনদিন ধরে আমার মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। কিন্তু হাসপাতালের ঔষধ না পেয়ে বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা বলেন, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত। আর বয়স্করা হাপানি ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েও আসছেন চিকিৎসা নিতে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ভাপসা গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাঁপানী, এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টসহ হিটস্ট্রোক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

এই গরমে শিশুদের রোদে বের না হওয়া ও বাহিরের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি । একই সাথে পানি বেশি করে খাওয়াতে বলেন। এরপরও অসুস্হ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলেন তিনি ।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহেল মাফি বলেন, মূলত গরমে ডায়রিয়ার, নিউমোনিয়া জ্বরসহ শিশুরা বিভিন্ন রোগে প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোগে চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি বাইরের খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এসব রোগীদের ভয়ের কিছু নেই বলে জানান তিনি। আর ঔষধের ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে সরবরাহ কম থাকায় এবং রোগী বেশি হওয়ায় হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Ads