পীরগঞ্জের রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৩ বছর পর ব্যাকডেটে নিয়োগের অভিযোগ!

সরওয়ার জাহান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি পীরগঞ্জ(রংপুর):
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
পীরগঞ্জের রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৩ বছর পর ব্যাকডেটে নিয়োগের অভিযোগ!

পীরগঞ্জের রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম সম্প্রতি অবসরে যাওয়ার আগে ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অদৃশ্য প্রক্রিয়ায় ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগকৃতদের এমপিওভুক্তির জন্য পাঠানো ব্যানবেইস স্থগিত করতে বঞ্চিত এক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগে জানা গেছে, পীরগঞ্জের উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ৪ টি পদে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ওইসব পদে অধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সভাপতি কুমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইব্রাহিম লাবুর পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন স্থানীয় এমপি নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেন। ওই সময়ের অভিযোগে জানা যায়, অধ্যক্ষ এবং সভাপতি ৪ টি পদে কয়েক লক্ষ টাকা ডোনেশন নিয়েছেন। অপরদিকে আবেদনকারীরা নিয়োগের অপেক্ষায় থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তন হলে নিয়োগ কার্যক্রম ঝুলে যায়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটি বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে ২০২৬ সালের ৯ মে উল্লেখিত কলেজটির অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়ার আগেই ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গোপনে ৪ জনকে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, মালেকা বেগম, রুহুল আমিন, গোলাম আজম এবং রওজা বেগম। নিয়োগকৃতদের এমপিওভুক্তির জন্য সাবেক অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম গত ২৪ মে/২৬ ইং তারিখে ডকেট নং ২০২৬৫ এ সকল তথ্যাদি অনলাইনের মাধ্যমে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠায়। এ ঘটনায় অপর প্রার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, ২০২৩ সালে পীরগঞ্জে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ছিলেন গাইবান্ধা জেলা সদরের প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান। তিনি অবসরে গেছেন। অথচ তার স্বাক্ষরেই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের কোন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না থাকলেও তাদের এমপিওভুক্তির জন্য ব্যানবেইস পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় নিয়োগ পরীক্ষা বঞ্চিত প্রার্থী শরিফুল ইসলাম অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্ত না করতে রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষার উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলামের দেয়া

অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং এমপিওভুক্ত না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিয়েছি। গভর্নিং বডির তৎকালীন সভাপতি আবু ইব্রাহীম লাবু বলেন, মোবাইলে সব বলা যাবে না বলেই তিনি সংযোগ কেটে দেন। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম বলেন, যাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিলে আমি দায়মুক্ত হবো, তাকেই দায়িত্ব দিয়েছি। আর যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমান অধ্যক্ষ (ভার:) মোস্তাফিজার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শুনেছি নিয়োগ হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানে আসে না।

রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক রোকসানা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Ads