মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষনের ঘটনায় মামলা

সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষনের ঘটনায় মামলা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পূর্ণ করার জন্য রোববার (৫ জুলাই) কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও  হাফিজিয়া মাদরাসায়।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব (১৯) নামে এক যুবক পাশ^বর্তী দলদলিয়া ইউনিয়নের মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে (১৭) দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে।  গত ৩০ জুন বিকালে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আসতে বলে।

এরপর ওই শিক্ষার্থী সেখানে গেলে মাদ্রাসার একটি শ্রেণি কক্ষে নিয়ে গল্পে করে । এ সময় ওই যুবক মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলাম (৪০) এর সাথে শিক্ষার্থীর পরিচয় করিয়ে দেন এবং সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে ওই শিক্ষক রাকিবকে শ্রেণি কক্ষেই ঘুমাতে বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে যায় ষ।

এরপর অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে লম্পট শিক্ষক শিক্ষার্থীকে চর থাপ্পর মেরে জোর পূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীর আত্মচিৎকারে রাকিব এসে দরজা খুলতে বললে শিক্ষক রাকিবের কাছে শিক্ষার্থীকে সেখানেই রেখে চলে যায়। ওই শিক্ষার্থী শিক্ষক কর্তৃক তাকে ধর্ষন চেষ্টার কথা রাকিবকে জানালে সে তাকে শান্তনা দেয়।

এ সময় রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে বিবাহ করার আশ্বাস দিয়ে রাতভর একাধিকবার ধর্ষন করে। পরদিন সকালে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে স্বজনদের জানান।

এরপর স্থানীয় মাতাব্বরা ওই শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে চাপ দিয়ে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। পরে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর নানা বাদি হয়ে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল ইসলামের নামে উলিপুর থানায় মামলা করেন।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য রোববার (৫ জুলাই) কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

 

Ads