কিয়েভে ফের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ন্যাটো সম্মেলনের মাঝেই তীব্র উত্তেজনা

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কিয়েভে ফের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ন্যাটো সম্মেলনের মাঝেই তীব্র উত্তেজনা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আজ বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে চালানো এই হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাজধানী কিয়েভের অন্তত দুটি জেলায় আগুন লেগেছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। খবর আল জাজিরার।

এর মাত্র একদিন আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেসায় রাশিয়ার আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয় গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, আহতদের মধ্যে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর আগে সোমবারও (৬ জুলাই) কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন এবং এক ডজনের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইউক্রেন বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত দুই দিনে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট‘-এর অন্তত ১২টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আজভ সাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আটটি ট্যাংকারে সফল হামলার দাবি করেছে কিয়েভ। পরে আরও দুটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনের দাবি, এসব জাহাজ রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ করছিল। আজভ সাগরকে ক্রিমিয়াসহ দক্ষিণ ইউক্রেনে মোতায়েন রুশ বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাশিয়া ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়াই ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। এরপর ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে।

রাশিয়া-ইউক্রেনের এই নতুন হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যেই।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোর কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। কিয়েভে রাশিয়ার ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পর তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা দ্রুত বাড়ানোর দাবি জানান।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আঙ্কারায় তিনি এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

তার ভাষায়, এসব চুক্তির মাধ্যমে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

জেলেনস্কি আরও জানান, জার্মানি, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও কানাডার সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্মেলনের আগে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমি আশা করি খুব শিগগিরই এই যুদ্ধের সমাধান হবে। আমার বিশ্বাস, দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। অনেক দেরি হয়ে গেছে, তবে আমি মনে করি ইতিবাচক কিছু ঘটবে।

Ads