জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে তিন বাংলাদেশি উধাও, বিজিবি-গ্রামবাসীর বক্তব্যে ভিন্নতা

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে তিন বাংলাদেশি উধাও, বিজিবি-গ্রামবাসীর বক্তব্যে ভিন্নতা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ তিন বাংলাদেশিকে রোববার সকালে সেখানে আর দেখা যায়নি। তাঁদের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শনিবার রাতে নড়াইল থেকে স্বজনেরা সীমান্তে আসার পর বিজিবি ওই তিনজনকে নিয়ে যায়। তবে বিজিবির দাবি, শনিবার রাতেই ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্য রেখা থেকে তাঁদের সরিয়ে নেয়।

‎পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, শনিবার ভোরে বিএসএফ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে দ্রুত সরে যান। অপর এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে স্থানীয় লোকজন সীমান্তসংলগ্ন সড়কে আটক করেন। পরে তাঁরা বিষয়টি বিজিবিকে জানালে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে সীমান্তের শূন্য রেখায় নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁরা বিজিবির কঠোর পাহারায় ছিলেন।

‎আটকদের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, বৃদ্ধের নাম শেখ হাফিজুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীর নাম নাছিমা বেগম। তাঁদের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। সঙ্গে থাকা অপর নারী তাঁদের নিকটাত্মীয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর ভিসা–সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁরা দেশটির কারাগারে ছিলেন।
‎
শনিবার ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়াইল থেকে তাঁদের স্বজনেরা সীমান্তে আসেন। শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগমের ছেলে সোহাগ শেখ। যিনি নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি শনিবার রাতে একটি সাদা রঙের হাইএস মাইক্রোবাসে করে সেখানে পৌঁছান বলে স্থানীয়রা জানান।

‎সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই তিনজন শূন্য রেখাতেই ছিলেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের রাতে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা শূন্য রেখায় আর কাউকে দেখতে পাননি। রাতেই তিনজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

‎মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সোহাগ শেখ সাংবাদিকদের বলেন, আমার মা-বাবা পাঁচ মাস আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। প্রথম দিকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও প্রায় এক মাস ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার সকালে জয়পুরহাট সীমান্তে তাঁদের আটকের ভিডিও দেখে রাতে সেখানে যাই। কিন্তু মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীন ভুটিয়াপাড়া বিওপির কমান্ডার শামসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা তিনজনকে বিএসএফ সরিয়ে নিয়েছে।
‎

Ads