অযত্ন-অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে বেহাল ঐতিহ্যবাহী হাট, চরম দুর্ভোগ

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
অযত্ন-অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে বেহাল ঐতিহ্যবাহী হাট, চরম দুর্ভোগ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা ঐতিহ্যবাহী বড়ইবাড়ী হাট-বাজার। আর চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে এই বিখ্যাত হাট-বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীসহ হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা। এভাবেই ধীরে ধীরে রাজস্ব হারিয়ে বঞ্চিত হবে সরকার। তবে সংস্কার ও দখলমুক্ত আর সঠিক তদারকির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজারের জৌলুশ ফেরানোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও বাজার কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক সভ্যতার ছুয়ায় সারা দেশের মতো গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ছোট-বড় হাট-বাজার। এসব নতুন হাট-বাজারের ভীড়ে এখনো বহু বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী অন্যতম হচ্ছে কালিয়াকৈর সদর বাজার, বড়ইবাড়ী বাজার, ফুলবাড়িয়া বাজার ও সফিপুর বাজার, বেনুপুর।

আর এসব নতুন হাট-বাজারের চেয়ে অনেক বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করছে সরকার। অথচ এসব ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে চাপাইর ইউনিয়নের বড়ইবাড়ী হাট-বাজার। এটি মুলত সাপ্তাহিক গ্রামীণ হাট হলেও প্রতিদিন ভোর থেকে ৯টা পযন্ত বাজার বসে। আগে বর্ষায় মৌসুমে পানি বেশি হলে পাশেই বড়ইবাড়ী এ.কে.ইউ.ইনষ্টিটিউশন এন্ড কলেজের পাশে বসতো। এখন আর সেখানে হাট বসে না। ফলে সেখানকার হাটের প্রায় পুরো জমি জবর-দখল হয়ে গেছে।

এছাড়াও বর্তমান হাটের সরকারী জমি জবর-দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। কিন্তু হাটের সরকারি জমি উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তারপরও বর্তমান হাটের স্থলের উত্তর পাশে বড়ইবাড়ী-বোয়ালী, পূর্বপাশে বড়ইবাড়ী বাজার-মজুদপাড়া এবং পশ্চিম পাশে উত্তর থেকে দক্ষিণে তুরাগ নদী পর্যন্ত রাস্তা। এসব রাস্তার উন্নয়ন কাজের কারণে হাটটি নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জলাবদ্ধতা বর্ষা মৌসুমে হাটটিতে প্রায় স্থায়ী রূপ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, হাটের মাঝখানে টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। যেটা ভরে নিয়মিতি বজ্র পানি বাইরে বেড়িয় আসছে। ওই টয়লেটের বজ্র পানির জলাবদ্ধতা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। হাটের ওই স্থানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকটা নাক-মুখ চেপে কেনাবেচা করতে হচ্ছে।

সেদিকে যেন নজর নেই ইজারাদার, বাজার বনিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এক সময় এই হাটে কাপড়, তৈজসপত্র, শাকসবজি, আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ফলমুল এবং ধান, চাউল, হাঁস-মুরগি, মাছ, কাঠ, অলংকার, রুটি-মিষ্টিসহ নানা পণ্য ব্যাপক কেনাবেচা হতো। এই গ্রামের ছাড়াও কাছে ও দুরের শতাধিক এলাকার মানুষ এ হাটের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাটের বেহাল অবস্থার কারণে এখন দোকানগুলোতে ভীড় নেই। ফলে এই হাট থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ আছে। ইতিমধ্যে কাঁঠাল ও কাঠের বড় একটি অংশ পৃথক দুটি স্থানে ব্যক্তিগত জমিতে চলে গেছে। যা ঐতিহ্যবাহী হাটের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।

আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব কমবে বলেও জানিয়েছেন হাটের ইজারাদার ও ক্রেতা-বিক্রেতারা। হাটের এমন অবস্থায় বাজার সমিতির তেমন কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। তবে হাটের উন্নয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন স্থানীয় চাপাইর ইউনিয়ন বিএনপির আহব্বায়ক সদস্য মুখলেছ মৃধা। বিএনপির এই নেতা বলেন, বড়ইবাড়ী হাটটি অনেক পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার। কিন্তু হাটের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। এ কারণে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানের সুপারিশ নিয়ে হাটের উন্নয়নের জন্য আবেদন করেছি।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। কিন্তু অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে হাটের বেহাল অবস্থা হলেও উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে অতিদ্রুত সংস্কার ও দখল মুক্ত করে পুনরায় হাটের জৌলুশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ এলাকাবাসী।

ওই হাটের ইজারাদার জহির খান জানান, আমরা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নিয়েছি। বাজারের বেহাল অবস্থার বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আর টয়লেটের বজ্র কিছুদিন পর পর পরিষ্কার করা হয়। আগামী দু-একদিনের মধ্যে আবার পরিষ্কার করা হবে। এছাড়াও কাঁঠাল ও কাঠের হাট অন্যত্র চলে যাওয়ায় ওই কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। সে আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ভুমি অফিসের নায়েব তদন্ত করছেন। সব মিলিয়ে এতো টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়ে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি।

বড়ইবাড়ী বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক উজ্জল খান জানান, এর আগে ইউএনও অফিসে বাজারের রাস্তা ও সেট ও ড্রেনের জন্য আবেদন করেছিলাম। আবেদনের প্রেক্ষিতে একটা সেট ও অল্প একটি রাস্তা করেছিল। আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। তবে অতিদ্রুত হাটের উন্নয়নের দাবী জানান তিনি।

ফতেপুর ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা (নায়েব)
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ওই হাটের উন্নয়নের জন্য আবেদন পেয়েছি। পরে হাটের উন্নয়নের জন্য স্টিমেট তৈরি করা হচ্ছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি ওই হাটের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

Ads